জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ভিড় বাড়ছে। তবে প্রার্থী বাছাইয়ে দলটি পড়েছে নাজেহাল অবস্থায়, কারণ যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের জন্য আসন ছাড়তে হচ্ছে। নতুন শরিক দল যুক্ত হলে তাদের জন্যও আসন ভাগ দিতে হবে, যা আরও জটিল করছে হিসাব।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, চলতি মাসের মধ্যেই ২০০ আসনে একক প্রার্থীকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেওয়া হবে। তবে শরিক দলগুলোর সঙ্গে এখনো আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা চলছে। শরিকরা বিএনপির কাছে দুই শতাধিক আসন চাইলেও বিএনপি সর্বোচ্চ ৩০টি আসন ছাড়ার কথা ভাবছে, যার মধ্যে ১৫ জনকে ইতিমধ্যেই সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।
নতুন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এনসিপিকে ৫–৭টি আসন দেওয়ার প্রস্তাব বিএনপির পক্ষ থেকে এলেও, এনসিপি চাইছে আরও বেশি।
এর মধ্যে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের ফলে এখন জোটের ছোট দলগুলোকে নিজেদের প্রতীকেই নির্বাচন করতে হবে; প্রধান দলের প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। এ কারণে ছোট দলগুলোর পক্ষে জয় পাওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছে বিএনপি ও শরিকরা উভয়ই।
বিএনপির মাঠ জরিপে দেখা গেছে, শরিক দলের প্রার্থীরা তুলনামূলকভাবে দুর্বল, ফলে জয়ী হওয়ার মতো প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। তবু শরিকদের প্রতি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে দলটি ভালো সমাধান খুঁজছে এবং প্রতীক ব্যবহারের নিয়ম পরিবর্তনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
শরিক দলগুলোও বাস্তবতা মেনে প্রার্থীর তালিকা সংক্ষিপ্ত করছে। গণতন্ত্র মঞ্চ, এলডিপি ও জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটসহ কয়েকটি শরিক দল জানিয়েছে, তারা শিগগিরই বিএনপির সঙ্গে বসবে আসন ভাগাভাগির চূড়ান্ত আলোচনার জন্য।