নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ও সিলেট
মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম মহানায়ক বঙ্গবীর জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন এই কিংবদন্তি সমরনায়ক। জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে তাঁর জন্মস্থান সিলেটসহ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে নানা কর্মসূচি।
বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ
আজ সকালে সিলেটে তাঁর মাজার প্রাঙ্গণে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়। বিকেলে বিভিন্ন স্থানে স্মরণ সভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও মুক্তিযুদ্ধ
মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী ১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন (পৈতৃক নিবাস সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার দয়ামীর গ্রাম)। তাঁর পিতা খান বাহাদুর মফিজুর রহমান ও মাতা জোবেতা খাতুন।
১৯৩৯ সালে তিনি ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মিতে যোগদানের মাধ্যমে সামরিক জীবন শুরু করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে প্রবাসী সরকার তাঁকে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত করে। তাঁর দক্ষ রণকৌশল এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক এক স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।
রাজনৈতিক আদর্শ ও জীবনদর্শন
বঙ্গবীর ওসমানী ছিলেন চিরকুমার এবং গণতন্ত্রের প্রতি আজীবন শ্রদ্ধাশীল। ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত নীতিবান ও সুশৃঙ্খল এই সেনাপতি ১৯৭৬ সালে রাজনৈতিক সংগঠন ‘জাতীয় জনতা পার্টি’ প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে তিনি তাঁর মেধা ও দেশপ্রেমের স্বাক্ষর রেখেছেন।
“যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি, বঙ্গবীর আতাউল গণি ওসমানী তাঁদের মাঝে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।”
শহীদ জননী ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে আজও দেশবাসী তাঁকে ‘বঙ্গবীর’ উপাধিতে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে।