
ক্রীড়া প্রতিবেদক | ঢাকা
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলমান আসরে দুর্নীতির কালো ছায়া রুখতে নজিরবিহীন কঠোরতা দেখাচ্ছে বিসিবির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিট (আকু)। ঢাকা ক্যাপিটালসের বিদেশি তারকা রহমানউল্লাহ গুরবাজের ঘরে আকু কর্মকর্তাদের তল্লাশি এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিটির প্রধান নির্বাহীর ফোন জব্দ করার ঘটনায় টুর্নামেন্ট জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে আজ শনিবার মুখ খুলেছেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ও বিসিবি পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু।
গতকাল ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রধান নির্বাহী আতিক ফাহাদ অভিযোগ করেছিলেন যে, দলের ম্যানেজার বা খেলোয়াড়কে কোনো আগাম তথ্য না দিয়েই রহমানউল্লাহ গুরবাজের রুমে ঢুকে পড়েন দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তারা। সেখানে তাঁর ফোন ঘেঁটে দেখা হয়। এছাড়া আতিক ফাহাদের নিজের ফোনও আকু কর্মকর্তারা জব্দ করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
আকু কর্মকর্তাদের এমন অতর্কিত অভিযানের বিষয়ে ইফতেখার রহমান মিঠু আজ সাংবাদিকদের বলেন, "আমার মতে তো এমনি এমনি কারো ফোন নেয় না। এটা পর্যবেক্ষণের একটা অংশ। তারা যেকোনো সময় আমার ফোনও নিতে পারে, সেই অধিকার তাদের রয়েছে।"
তিনি আরও যোগ করেন:
কঠোর গোপনীয়তা: ড্রেসিংরুম বা পিএমও (PMO) এরিয়ায় খোদ বিপিএল ম্যানেজমেন্টের কর্তাদের প্রবেশও নিষিদ্ধ। আকু কর্মকর্তারা অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও কঠোরতার সাথে কাজ করছেন।
নীতিমালা: আইসিসি ও বিসিবির দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালায় কর্মকর্তাদের যেকোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তির ওপর নজরদারি এবং ডিভাইস পরীক্ষার পূর্ণ অধিকার দেওয়া হয়েছে।
বিস্তারিত তথ্য: আগামী ১৫ জানুয়ারির পর দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তারা এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেবেন এবং গণমাধ্যমকে ব্রিফ করবেন।
অতীতের বিপিএল আসরগুলো ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে অনেকবার কলঙ্কিত হয়েছে। এবারের আসরে এখন পর্যন্ত বড় কোনো অভিযোগ না এলেও গুরবাজ ও ঢাকা ক্যাপিটালসের কর্মকর্তাদের ওপর এই কড়াকড়ি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তলে তলে কোনো সন্দেহজনক তৎপরতা আকুর নজরে এসেছে।
বিসিবি কর্মকর্তাদের দাবি, টুর্নামেন্টকে শতভাগ কলঙ্কমুক্ত রাখতেই এমন আপোষহীন অবস্থান নেওয়া হয়েছে। তবে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং আকুর তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে সমন্বয় নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর ভেতরে চাপা অসন্তোষ বিরাজ করছে।