
নিজস্ব প্রতিবেদক | লন্ডন
লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন সিলেটের মেয়ে আমিনা আলী। ব্রিটেনের প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল লেবার পার্টি তাকে বেথনাল গ্রিন আসনের অন্তর্ভুক্ত উইভার্স ওয়ার্ড থেকে মনোনীত করেছে। আগামী ৭ মে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে লেবার পার্টির মেয়র প্রার্থী সিরাজুল ইসলামের প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি।
জন্মসূত্রে ব্রিটিশ নাগরিক হলেও আমিনা আলীর শেকড় সিলেটে। দক্ষিণ সুরমার বৃহত্তর কামালবাজার এলাকার এই কৃতি সন্তান কৈশোরের দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন পুণ্যভূমি সিলেটে। তিনি কামালবাজারের হাজী রাশিদ আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক এবং পরবর্তীতে সিলেট ল’ কলেজে পড়াশোনা করেছেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি দক্ষ সংগঠক ও ছাত্রনেতা হিসেবে সিলেটে সুপরিচিত ছিলেন। রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে জনসেবায় যুক্ত ছিলেন তিনি।
পরিবারসহ গত ১৫ বছর ধরে লন্ডনের বেথনাল গ্রিন এলাকার উইভার্সে বসবাস করছেন আমিনা আলী। যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হওয়ার পর থেকেই তিনি প্রবাসীদের প্রিয় দল লেবার পার্টির রাজনীতির সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত হন। তার একনিষ্ঠতা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ দল তাকে এবার কাউন্সিলর পদের জন্য বেছে নিয়েছে। উল্লেখ্য, উইভার্স ওয়ার্ড থেকে আমিনা আলীর সাথে আরেক সিলেটি বংশোদ্ভূত দিলওয়ার হোসেনও কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন।
আমিনা আলীর প্রার্থিতা ঘিরে বেথনাল গ্রিন ও বৃহত্তর কামালবাজার প্রবাসীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে এই আসনের এমপি ও সাবেক মন্ত্রী রুশনারা আলীর সাথে তার এলাকার যোগসূত্র ভোটারদের মাঝে আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছে। উল্লেখ্য, রুশনারা আলীর পূর্বপুরুষও বৃহত্তর কামালবাজারেরই অধিবাসী।
স্থানীয় ভোটার সুন্দর আলী আমিনা আলীর প্রশংসা করে বলেন, “আমিনা একজন যোগ্য ও পরিশ্রমী সমাজকর্মী। লেবার পার্টির কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি সবসময় নিবেদিত। ইন শা আল্লাহ, তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন।”
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের আঞ্চলিক ভাষায় আমিনা আলী বলেন:
“আমি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে উইভার্স এলাকায় বসবাস করছি। তাই এই এলাকার মানুষের সমস্যাগুলো আমি খুব ভালো জানি। ভোটাররা যদি আমায় নির্বাচিত করেন, আমি তাদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে আপ্রাণ চেষ্টা করব।”
নির্বাচনী মাঠে স্থানীয় ভোটারদের মুখে মুখে এখন আমিনা আলীর নাম। বিশেষ করে তার পরিচিতি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় তিনি সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ৭ মে ব্যালটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে এই সিলেটি কন্যার আগামীর রাজনৈতিক পথচলা।