
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
বিশ্ব রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদল মানেই অনেক সময় রক্তক্ষয়ী সংঘাত, গৃহযুদ্ধ আর লাশের মিছিল। বিশেষ করে স্বৈরশাসকদের ইতিহাসে দেখা যায়, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে তারা জনপদকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতেও দ্বিধাবোধ করেন না। ইরানের খোমেনির শাসনামলে প্রায় ১৮ হাজার আন্দোলনকারীকে হত্যা এবং ৪ লাখের বেশি মানুষকে আহত করার যে সরকারি নথিপত্র পাওয়া যায়, তা ক্ষমতার ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায়। একইভাবে স্ট্যালিন বা মুসোলিনির মতো শাসকেরা রক্তের স্রোতে নিজেদের সিংহাসন ভাসিয়ে দিয়েছেন।
তবে সমকালীন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা এক সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সমালোচকদের নানা উক্তি থাকলেও, সাম্প্রতিক সংকটে তার নেওয়া সিদ্ধান্তটি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের কাছে এক অনন্য ‘নৈতিক সাহস’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
আন্দোলনের সেই উত্তাল সময়ে গুটি কয়েক ব্যক্তিকে সরিয়ে দিলেই হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারতো, কিন্তু তিনি তা করেননি। কেন করেননি? তার উত্তর লুকিয়ে আছে তার রাজনৈতিক দর্শনে। তিনি খোমেনি, স্ট্যালিন বা মুসোলিনি নন; তিনি একজন রাজনৈতিক নেতা এবং একজন মা। একজন মা কখনোই তার সন্তানদের বা নিজের জনগণের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন না।
ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার চেয়ে দেশকে গৃহযুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করাকেই তিনি শ্রেয় মনে করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লাখো মানুষের প্রাণ বিসর্জন দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেয়ে শান্তির জন্য সিংহাসন ত্যাগ করা অনেক বেশি সাহসের কাজ। তিনি দেশ ছেড়েছেন যাতে দেশটা বেঁচে থাকে, যাতে সাধারণ মানুষের রক্ত আর না ঝরে।
‘দেশরত্ন’ উপাধিটি তিনি কোনো করুণা বা দয়ায় পাননি। বছরের পর বছর জনগণের সেবা, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং সবশেষে দেশের বৃহৎ স্বার্থে নিজের অর্জিত ক্ষমতাকে বিসর্জন দেওয়ার মতো মানবিকতা তাকে এই উচ্চতায় বসিয়েছে।
আজকের অস্থির সময়ে আবেগের বশে অনেকে হয়তো তার অবদানকে অস্বীকার করতে চাইবেন, কিন্তু ইতিহাস সর্বদা নির্মম এবং সত্যনিষ্ঠ। নেতার সাথে শাসকের পার্থক্য যে কতটুকু, তা সময়ের বিবর্তনে আবারও প্রমাণিত হবে। ইতিহাসে স্বৈরশাসকের অভাব নেই, কিন্তু জনগণের প্রাণ বাঁচাতে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ত্যাগের দৃষ্টান্ত শুধু একজনের নামেই লেখা থাকবে— শেখ হাসিনা।