
বিশ্বের মোট জনসংখ্যার চার-পঞ্চমাংশ, অর্থাৎ ৮১ শতাংশ মানুষ এখন শহুরে এলাকায় বসবাস করছে—জাতিসংঘের জনসংখ্যা বিভাগের নতুন এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে এ তথ্য। আগের ধারণার তুলনায় এটি অনেক বেশি বলে জানিয়েছে নিউইয়র্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি।
২০১৮ সালের ‘ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রসপেক্টস’-এ বিশ্বের ৫৫ শতাংশ মানুষ শহরে বাস করে বলা হয়েছিল। তবে সে হিসাব নির্ভর করেছিল বিভিন্ন দেশের নিজস্ব ‘শহর’ সংজ্ঞার ওপর, যা দেশভেদে ভিন্ন।
যেমন—
ডেনমার্কে ২০০ জনের বসতি শহর
জাপানে ৫০ হাজার জন থাকলেই শহর
সংজ্ঞার এই বৈচিত্র্য দূর করতে গবেষক সারা হার্টগের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ দল একক মানদণ্ড তৈরি করে।
নগর: জনসংখ্যা ≥ ৫০,000 এবং ঘনত্ব ≥ ১,৫০০ জন/বর্গকিমি
শহর: জনসংখ্যা ≥ ৫,000 এবং ঘনত্ব ≥ ৩০০ জন/বর্গকিমি
বাকিগুলোকে গ্রামীণ এলাকা ধরা হয়েছে।
২৩৭টি দেশ ও অঞ্চলের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়—
৪৫% মানুষ নগরে
৩৬% মানুষ ছোট-বড় শহরে
ফলে মোট ৮১% মানুষ এখন শহুরে
১৯% মানুষ গ্রামে
গবেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে শহরাঞ্চলে ৮৩ শতাংশ মানুষ বসবাস করবে। তখনো নগরে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকবে।
পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়া: শিক্ষা, কাজ ও সামাজিক সুযোগের টানে গ্রাম থেকে শহরমুখী
ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা: বিদেশি অভিবাসন অন্যতম চালিকা শক্তি
সাব-সাহারান আফ্রিকা: উচ্চ জন্মহারই প্রধান কারণ
নেতিবাচক দিক
পরিকল্পনাহীন শহরায়ণ → গাড়িনির্ভরতা ও দূষণ বৃদ্ধি
বায়ুদূষণ, তাপমাত্রা বাড়া, সবুজ এলাকার অভাব
মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যে ক্ষতি
ইতিবাচক দিক
উন্নত স্বাস্থ্যসেবা
সামাজিক সংযোগ
দক্ষ পরিবহনব্যবস্থার সুযোগ
নগরায়ণ রোধ নয়, বরং শহরকে আরও বাসযোগ্য, সবুজ ও টেকসই করা এখন জরুরি—এমনটাই বলছেন গবেষকরা।