ক্রীড়া প্রতিবেদক | ঢাকা
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলামের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তাল দেশের ক্রিকেট অঙ্গন। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং ক্রিকেটারদের আয় নিয়ে দেওয়া তাঁর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা শুরু হলে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করেছে বিসিবি। একই সঙ্গে ওই পরিচালকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ এই ক্রিকেট সংস্থা।
বিতর্কের সূত্রপাত
আজ বিকেলে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নাজমুল ইসলাম বলেন, “২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেললে বিসিবির কোনো ক্ষতি হবে না। ক্রিকেটারদের কাছ থেকে কি আমরা টাকা ফেরত চাচ্ছি?” তাঁর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভক্ত ও ক্রিকেটারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিশ্বকাপ ভেন্যু নিয়ে অনিশ্চয়তার মাঝে এমন মন্তব্যকে ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেছেন অনেকে।
বিসিবির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া
বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিসিবি এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, “বিসিবির এক পরিচালকের সাম্প্রতিক মন্তব্য অনেককে বিচলিত করে তুলেছে। বোর্ড এই মন্তব্যকে অনুপযুক্ত ও আপত্তিকর মনে করছে এবং এর জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বিসিবি আরও স্পষ্ট করেছে যে, ক্রিকেটারদের কল্যাণ ও জাতীয় দলের পারফরম্যান্সই বোর্ডের কাছে অগ্রাধিকার পাবে এবং ব্যক্তিগত কোনো সদস্যের অযাচিত মন্তব্যের দায়ভার বোর্ড গ্রহণ করবে না।
কোয়াবের সভা ও ক্রিকেটারদের অসন্তোষ
নাজমুল ইসলামের এই মন্তব্যের প্রতিবাদে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব (COAB) আজ রাত ৯টায় জরুরি সভা ডেকেছে (যা পরবর্তীতে ৩০ মিনিট পিছিয়ে ৯টা ৩০ মিনিটে নির্ধারণ করা হয়)। উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ আখ্যা দিয়েও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন এই পরিচালক। সে সময় তাসকিন আহমেদ, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হকরা তাঁর পেশাদারত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
বিশ্বকাপ ভেন্যু নিয়ে জটিলতা ও নিরাপত্তা শঙ্কা
আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে কেকেআর বাদ দেওয়ার পর ভারতের নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খোদ বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাসুদ পাইলট।
ভারতের পরিবর্তে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সরিয়ে নেওয়ার গুঞ্জন থাকলেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। এই নাজুক পরিস্থিতিতে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের “বিশ্বকাপে খেলা বা না খেলায় বোর্ডের লাভ-ক্ষতি নেই” এমন মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে।
এখন সবার নজর রাত সাড়ে ৯টার কোয়াব সভার দিকে, যেখান থেকে ক্রিকেটাররা তাদের পরবর্তী অবস্থান পরিষ্কার করতে পারেন।