১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

বেনাপোলে ‘উল্টো পুরাণ’: ভারত থেকে পাচার হয়ে এলো ৬ হাজার কেজি ইলিশ

admin
প্রকাশিত ১৪ জানুয়ারি, বুধবার, ২০২৬ ২১:৫৫:১৮
বেনাপোলে ‘উল্টো পুরাণ’: ভারত থেকে পাচার হয়ে এলো ৬ হাজার কেজি ইলিশ

Manual4 Ad Code

বেনাপোল প্রতিনিধি | যশোর প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ২২:১৫

সাধারণত বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি হওয়া কিংবা উপহার পাঠানোর খবর নিয়মিত শোনা যায়। পদ্মার ইলিশকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে চলে ‘ইলিশ কূটনীতি’। তবে এবার ঘটল এর ঠিক বিপরীত এক বিরল ঘটনা। ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পাচার হয়ে আসা ৫ হাজার ৯৪৩ কেজি (প্রায় ৬ টন) ইলিশ জব্দ করেছে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ।

বিজিবির তথ্যে মধ্যরাতে অভিযান

বেনাপোল কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্র পাল জানান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) দেওয়া এক গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এসময় একটি ভারতীয় ট্রাক তল্লাশি করে ৫৩টি কার্টন ভর্তি ইলিশ পাওয়া যায়। আজ বুধবার দুপুরে মাছগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে জব্দ করা হয়।

Manual4 Ad Code

কাস্টমস সূত্র নিশ্চিত করেছে, কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়াই ‘মিথ্যা ঘোষণা’ দিয়ে আমদানিকৃত অন্য পণ্যের আড়ালে এই বিশাল ইলিশের চালানটি দেশে আনা হয়েছিল।

Manual2 Ad Code

নেপথ্যে সিন্ডিকেট ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ‘জান্নাত এন্টারপ্রাইজ’‘আরজে ইন্টারন্যাশনাল’ নামক দুটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এই জালিয়াতির নেপথ্যে রয়েছে। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বন্দর থেকে ইলিশের চালানটি কৌশলে খালাস করার দায়িত্বে ছিল আলোচিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘লিংক ইন্টারন্যাশনাল’, যার মালিকানা বিতর্কিত ব্যবসায়ী শান্তর।

Manual4 Ad Code

কর্মকর্তাদের ভাষ্য: কেন এই পাচার?

রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্র পাল বলেন:

“বাংলাদেশ থেকে ভারতে মাছ যাওয়ার চিত্রটি স্বাভাবিক হলেও, ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আসার বিষয়টি অত্যন্ত অস্বাভাবিক। মূলত সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যেই এই সিন্ডিকেটটি পাচারের পথ বেছে নিয়েছে।”

Manual7 Ad Code

বেনাপোল বন্দরে সাধারণত বাংলাদেশের ইলিশ রপ্তানির জন্য ট্রাকের সারি দেখা গেলেও, ভারতীয় ট্রাকে ইলিশ পাওয়ার ঘটনায় বন্দর এলাকায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।