নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট | ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সিলেট সার্কিট হাউসে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন যে, ব্যক্তিখাতে কর বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। একইসঙ্গে রমজানের বাজার পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি।
কর ও রাজস্ব প্রসঙ্গ
অর্থমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এক মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য ভুলভাবে মিডিয়ায় এসেছে। বাংলাদেশে ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও (Tax-GDP Ratio) প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। এই রেশিও কম হওয়ায় অর্জিত রাজস্ব মূলত সরকারের পরিচালনা ব্যয় মেটাতেই শেষ হয়ে যায়, যা উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে। অর্থমন্ত্রী মূলত এই রেশিও বাড়ানোর কথা বলেছেন, ব্যক্তিখাতে কর বাড়ানোর কথা নয়।”
বাজার পরিস্থিতি ও শ্রমিকদের পাওনা
রমজানে বাজারদর নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। শুরুর দিকে লেবুসহ দুই-একটি পণ্যের দাম বাড়লেও তা এখন স্বাভাবিক। এছাড়া আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও মজুরি পরিশোধ নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও এফটিএ
এলডিসি (LDC) উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির কথা জানিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে মুক্তবাণিজ্য (FTA) চুক্তির বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও একই ধরনের চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
শ্রমবাজার নিয়ে আশার বাণী
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত প্রবাসী কল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, বন্ধ থাকা বিভিন্ন শ্রমবাজার পুনরায় চালু করতে সরকার কাজ করছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে। বিশেষ করে স্পেনে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দ্রুত পৌঁছে দিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি আসন্ন বর্ষা মৌসুম নিয়ে সরকারের প্রস্তুতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন:
-
নদী-খাল খনন ও হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে কোনো ধরনের দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।
-
সিলেট অঞ্চলের পাহাড়ি ঢল ও বন্যা মোকাবিলায় চলমান প্রকল্পের পাশাপাশি নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।
-
যৌথ নদী কমিশনেও এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।
সভা শেষে মন্ত্রীদ্বয় সুরমা ও চেঙ্গার নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিসিক প্রশাসক কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এবং স্থানীয় বিএনপি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ।