আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২২ জানুয়ারি, ২০২৬
লন্ডনের স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউন কোর্টে এক চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্যে উঠে এসেছে কীভাবে ১৯ বছর বয়সী ব্যারন ট্রাম্পের একটি ফোন কল এক নারীকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে এনেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মেট্রো এবং মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজ এই রোমহর্ষক ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি ভোরে লন্ডনে বসবাসরত এক তরুণী তাঁর সাবেক প্রেমিক ২২ বছর বয়সী রুশ নাগরিক মাতভেই রুমিয়ানস্তেভ কর্তৃক ভয়াবহ শারীরিক ও যৌন সহিংসতার শিকার হন। প্রাণ বাঁচাতে ওই নারী কোনোভাবে তাঁর বন্ধু ব্যারন ট্রাম্পকে ফেসটাইমে কল করেন।
ব্যারনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ
ফেসটাইম কলটি রিসিভ করার পর ব্যারন ট্রাম্প স্ক্রিনে ভয়ংকর হামলার দৃশ্য দেখতে পান। আদালতকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:
-
কলটি মাত্র ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল।
-
ব্যারন ভিডিওতে ছাদ দেখতে পাচ্ছিলেন এবং তরুণীর আর্তচিৎকার শুনছিলেন।
-
তিনি একজনকে মাথায় আঘাত করতে দেখেন এবং সঙ্গে সঙ্গে লন্ডনের জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন।
জরুরি সেবায় ব্যারনের করা ফোনকলের অডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমি একজন মেয়ের কাছ থেকে ফোন পেয়েছি। তাঁকে মারধর করা হচ্ছে। এটা খুবই জরুরি।”
আদালতে সাক্ষ্য ও অভিযুক্তের বিবরণ
ভুক্তভোগী নারী আদালতে জানান, রুমিয়ানস্তেভ ব্যারনের সাথে তাঁর বন্ধুত্ব নিয়ে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত ছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই ওইদিন তাঁকে শ্বাসরোধ করা হয় এবং ধর্ষণ করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন তরুণী জানান যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুত্র ব্যারন ট্রাম্পই পুলিশকে খবর দিয়েছেন।
সাক্ষ্য দিতে গিয়ে ওই নারী আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “ব্যারন আমার জীবন বাঁচিয়েছে। সেই ফোনটা ছিল ঈশ্বরের পক্ষ থেকে আসা এক সংকেত।”
বর্তমান পরিস্থিতি
অভিযুক্ত রুমিয়ানস্তেভ তাঁর বিরুদ্ধে আনা হামলা, ধর্ষণ এবং শ্বাসরোধের সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বর্তমানে লন্ডনের আদালতে এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।