
বায়র/নিজেস্ব প্রতিবেদন:
যুক্তরাজ্যের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ফিল্ড মার্শাল লর্ড রিচার্ডস বলেছেন, ইউক্রেনের পক্ষে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ জেতা সম্ভব নয়; তাই এখন শান্তিচুক্তির পথ বেছে নেওয়াই বাস্তবসম্মত ফলাফল। তিনি এই মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য ইনডিপেনডেন্ট-এর পডকাস্ট ‘ওয়ার্ল্ড অব ট্রাবল’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে।
রিচার্ডস বলেন,
“আমরা ইউক্রেনকে যুদ্ধ করতে বলেছি, কিন্তু জেতার মতো রসদ দিইনি। আমার মনে হয়, তারা জিততে পারবে না।”
তিনি আরও মন্তব্য করেন, উপযুক্ত রসদ দিলেও এখনই ইউক্রেনের বিজয় সম্ভব নয়—কারণ পর্যাপ্ত জনবল ও দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা তারা হারিয়ে ফেলেছে। ন্যাটো বাহিনী সরাসরি যুদ্ধে নামবে না — তার যুক্তি, “ইউক্রেন আমাদের জন্য অস্তিত্বের প্রশ্ন নয়, কিন্তু রাশিয়ার জন্য এটি তেমনই একটি বিষয়।”
রিচার্ডস প্রশ্ন তুলেছেন যে, এখনি ‘জয়সাধ্য লক্ষ্য’ ধরা ঠিক কি না এবং তিনি মনে করেন বাস্তবসম্মত বিকল্প হচ্ছে এক ধরনের সমঝোতামূলক শান্তিচুক্তি (a draw / negotiated settlement)।
এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ চতুর্থ বছরে প্রবেশ করেছে এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন ও অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। রিচার্ডসের মন্তব্যটিও সেই প্রেক্ষাপটে আলোচিত হয়েছে—বিশেষ করে যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে কিছু উচ্চক্ষমতার অস্ত্র চেয়েও প্রত্যাশিত সাড়া পাননি বলে জানানো হয়েছে।
লর্ড রিচার্ডস পডকাস্টে ইরাক যুদ্ধ সম্পর্কেও মন্তব্য করেছেন; ২০০৩ সালের সময়ে তিনি টনি ব্লেয়ারের সরকারের সূত্রে প্রকাশিত গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিহীনতার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন এবং তখনকার সিদ্ধান্তগুলোর পেছনে গোপন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছিলেন।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে রিচার্ডসের ঐসব মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কাছেও তর্ক উসকে দিয়েছে—কখন কীভাবে যুদ্ধবিরতি ও আলোচনা সম্ভব হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।