
ব্র্যাকের ব্যাংকের কিস্তি আদায়ে অনিয়ম, ২ হাজার টাকা ঘুষ না দিলে ঋণ অনুমোদন না হওয়ার অভিযোগ
সিলেটে ব্র্যাকের ঋণ কার্যক্রমে কিস্তি আদায় ও ঋণ অনুমোদনের নামে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নগরীর লালাদিঘির পাড় এলাকার একটি কেন্দ্রের কয়েকজন গ্রাহক এমন অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, ওই কেন্দ্রে জরিনা নামে এক নারী সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। আর কিস্তি আদায়ের দায়িত্বে রয়েছেন সুক্তা দাস নামে এক নারী কর্মকর্তা। অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রাহকরা ঋণের কিস্তি পরিশোধের পাশাপাশি নতুন ঋণ বা লোন পাসের জন্য সভানেত্রী জরিনার মাধ্যমে অতিরিক্ত ২ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
গ্রাহকদের অভিযোগ, নির্ধারিত কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ এবং লেনদেনের রেকর্ড ভালো থাকার পরও ওই ২ হাজার টাকা না দিলে তাদের ঋণ অনুমোদন করা হয় না। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
একাধিক গ্রাহক আরও দাবি করেন, নিয়ম অনুযায়ী ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে গ্রাহকের আর্থিক সক্ষমতা, পূর্বের ঋণ পরিশোধের ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করার কথা থাকলেও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের মাধ্যমে বিষয়টি প্রভাবিত করা হচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, সুক্তা দাস ও কেন্দ্রের সভানেত্রী জরিনার সমন্বয়ে দীর্ঘদিন ধরে এভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এতে ওই কেন্দ্রের গ্রাহকদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তারা।
তবে এইসব অভিযোগের সত্যতা জানতে সিলেটের বারুদ পত্রিকা অফিস থেকে মুক্তা দাসের মুঠো ফোনে কল দিয়ে জানতে চাইলে তিনি সম্পূর্ণভাবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে ঋণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে গ্রাহকদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূত কোনো অর্থ আদায় বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।