
ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! একসময়ের কোটিপতি এখন রাস্তার পাশের কাবাব বিক্রেতা!
ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এক রাতের ব্যবধানে বদলে যেতে পারে মানুষের জীবন। তবে সেই নির্মম বাস্তবতার কাছে হাঁটু মুড়ে না বসে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাঁধন হোসেন। একসময় যিনি ছিলেন কোটি টাকার রেস্টুরেন্ট ব্যবসার মালিক, সচ্ছল ও সফল এক নারী; ভাগ্যের চাকা ঘুরে তিনি আজ গুলশানের ফুটপাতে। তবে কোনো লজ্জা বা দ্বিধা নয়—আত্মসম্মান ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিকে সম্বল করে কয়লার আগুনে পরোটা আর কাবাব ভেজেই নতুন জীবনযুদ্ধ শুরু করেছেন এই লড়াকু নারী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাঁধন হোসেনের অতীত ছিল বিলাসে মোড়ানো। নিজের বড় রেস্টুরেন্ট ব্যবসা, সচ্ছলতা ও সম্মান—সবই ছিল তার। কিন্তু সময়ের টানাপোড়েন আর ভাগ্যের ধাক্কায় সবকিছু হারিয়ে একপর্যায়ে তিনি পুরোপুরি শূন্য হাতে এসে দাঁড়ান। তবে আর দশটা সাধারণ মানুষের মতো ঘরে বসে ভাগ্যের দোহাই দিয়ে কান্না করেননি বাঁধন। সিদ্ধান্ত নেন নিজের মেধা ও পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে আবার শূন্য থেকেই শুরু করার।
গুলশানের এক কোণে ফুটপাতে এখন আলো ছড়াচ্ছে বাঁধনের নতুন উদ্যোগ 'বিবিজির কাবাব'। প্রতিদিন বিকেল নামলেই পরিপাটি সাজে দোকানে হাজির হন তিনি। জ্বলন্ত কয়লার শিক কাবাব থেকে ভেসে আসা সুবাস আর গরম গরম তুলতুলে পরোটা দিয়ে পরিবেশন করেন একেকটি পদ। তার হাতের রান্নার চমৎকার স্বাদের কারণে প্রতিদিনই সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন পথচারী ও ভোজনরসিকরা।
বাঁধন হোসেন জানান: — "কাজ কখনো ছোট বা বড় হতে পারে না। অন্যের কাছে হাত পাতাক চেয়ে কষ্ট করে সততার সাথে এক কাপ চা বিক্রি করাও অনেক সম্মানের।"
সম্প্রতি গণমাধ্যমে বাঁধন হোসেনের এই ঘুরে দাঁড়ানোর ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই নেটদুনিয়ায় এটি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়ে যায়। সব হারিয়ে একজন নারীর এমন একাগ্রতা ও সততার সাথে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প অনুপ্রাণিত করেছে হাজারো মানুষকে। নেটিজেনরা বলছেন, বাঁধন কোনো পরাজয়ের গল্প নন, তিনি লড়াই করে জিতে যাওয়ার এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা।
সম্পদ সাময়িক সময়ের জন্য হারিয়ে যেতে পারে, কিন্তু মানুষের আত্মবিশ্বাস ও ইচ্ছাশক্তি কখনো শেষ হয় না। গুলশানের ফুটপাতে পরোটা বিক্রির মাঝে হাজার কোটি টাকার আত্মসম্মান খুঁজে নেওয়া বাঁধন হোসেন আজ সমাজের বুকে এক অনন্য বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন।