৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে গোপন বৈঠকের দাবি জামায়াত আমিরের, ঐক্য সরকার গঠনের ইঙ্গিত

admin
প্রকাশিত ৩১ ডিসেম্বর, বুধবার, ২০২৫ ২৩:৪৯:৪৩
ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে গোপন বৈঠকের দাবি জামায়াত আমিরের, ঐক্য সরকার গঠনের ইঙ্গিত

Manual4 Ad Code

ঢাকা | রয়টার্স

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেছেন, চলতি বছরের শুরুতে তিনি একজন ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, তবে ওই কূটনীতিকের অনুরোধে বৈঠকটি গোপন রাখা হয়েছিল। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান তিনি।

বুধবার প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির বলেন, অন্যান্য দেশের কূটনীতিকেরা প্রকাশ্যে সাক্ষাৎ করলেও ভারতীয় ওই কর্মকর্তা বৈঠকটি গোপন রাখার অনুরোধ জানান। সে কারণেই বিষয়টি আগে প্রকাশ করা হয়নি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ ১৭ বছর পর নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে ফিরতে যাওয়া জামায়াতে ইসলামী দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। জনমত জরিপ অনুযায়ী, দলটি বর্তমানে বিএনপির পর দ্বিতীয় জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জামায়াত বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের শরিক ছিল।

সম্প্রতি তরুণ প্রজন্মের নতুন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় যাওয়ার পরপরই রয়টার্সকে এ সাক্ষাৎকার দেন জামায়াত আমির, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সাক্ষাৎকারে শফিকুর রহমান আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের পর একটি ‘জাতীয় ঐক্যের সরকার’ গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, নতুন সরকার গঠন করতে পারে—এমন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর অংশ হিসেবেই ওই ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়।

Manual8 Ad Code

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের সবার প্রতি খোলামেলা হতে হবে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই।’ তিনি বৈরী সম্পর্কের অবসানের ইঙ্গিতও দেন।

Manual1 Ad Code

এ বিষয়ে জানতে রয়টার্স ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সরাসরি মন্তব্য না করলেও দিল্লির সরকারি একটি সূত্র নিশ্চিত করে যে, তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে।

নির্বাচনের পর অন্তত পাঁচ বছরের জন্য একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র গঠনের ওপর জোর দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা চাই, সব দল একত্র হয়ে সরকার পরিচালনা করুক। এই সরকারের প্রধান লক্ষ্য হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান।’

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দল থেকেই প্রধানমন্ত্রী মনোনীত হবেন। জামায়াত সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে তিনি নিজে প্রধানমন্ত্রী হবেন কি না—এ প্রশ্নে তিনি জানান, বিষয়টি দলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

Manual2 Ad Code

বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতকে অন্তর্ভুক্ত করে কোনো সরকার গঠিত হলে তারা বর্তমান রাষ্ট্রপতির অধীনে কাজ করতে স্বস্তিবোধ করবে না।

এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি আর জটিল করতে চাই না।’

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত কোনো নির্দিষ্ট দেশের দিকে ঝুঁকতে চায় না; বরং সব দেশের সঙ্গে ‘ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক’ বজায় রাখার পক্ষে দলটি।

Manual3 Ad Code