নয়াদিল্লি | শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
ভারতের অর্থনীতি বর্তমানে এক দ্বিমুখী অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধির উজ্জ্বল পরিসংখ্যান ভারতকে বিশ্বমঞ্চে শক্তিশালী করছে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের অভাব নীতিনির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে।
১. উজ্জ্বল পরিসংখ্যান: জাপানকে টপকে চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি
ভারতের অর্থনীতি বর্তমানে ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী:
-
প্রবৃদ্ধি: চলতি অর্থবছরে ভারত ৭.৩% থেকে ৭.৪% প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে রয়েছে।
-
র্যাঙ্কিং: নামমাত্র (Nominal) জিডিপির ভিত্তিতে ভারত ইতোমধ্যে জাপানকে টপকে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
-
মূল্যস্ফীতি: খুচরা মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার নিচে (প্রায় ২%) নেমে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরছে।
২. চ্যালেঞ্জ: প্রবৃদ্ধির আড়ালে ‘নিয়োগ মন্দা’
উচ্চ প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও কর্মসংস্থানের চিত্রটি বেশ উদ্বেগজনক। বিশেষ করে:
-
আইটি খাতে মন্দা: একসময় যে সফটওয়্যার খাত ছিল কর্মসংস্থানের মূল ভরসা, সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-এর প্রভাবে নিয়োগ প্রায় থমকে গেছে। ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে শীর্ষ ৫টি আইটি কোম্পানি মাত্র ১৭ জন নতুন কর্মী নিয়োগ করেছে, যা একটি অশনিসংকেত।
-
বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা: ২০১২ সাল থেকে ভারতে করপোরেট বিনিয়োগ জিডিপির ১২ শতাংশেই আটকে আছে। কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা পূর্ণ মাত্রায় ব্যবহৃত না হওয়া এবং বাজারে চাহিদার অভাব এর প্রধান কারণ।
৩. ট্রাম্প শুল্ক ও বৈশ্বিক প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ফলে রপ্তানি খাতে সংকট ঘনীভূত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির (FTA) মতো পদক্ষেপ নিলেও মার্কিন বাজারের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৪. বিদেশি বিনিয়োগের (FDI) খরা
ভারতের প্রবৃদ্ধি রমরমা হলেও নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) বর্তমানে জিডিপির মাত্র ০.১ শতাংশে নেমে এসেছে। জমি অধিগ্রহণ ও শ্রম আইনের জটিলতাকে এর জন্য দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাজেট ২০২৬: কী প্রত্যাশা করছে ভারত?
আগামী রোববার অর্থমন্ত্রী যে বাজেট পেশ করবেন, তাতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে নজর থাকবে সবার:
-
আয়কর ছাড়: মধ্যবিত্তের হাতে খরচ করার মতো অর্থ (Disposable Income) বাড়াতে ব্যক্তিগত আয়করে ছাড়ের ঘোষণা আসতে পারে।
-
কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন: গ্রামীণ চাহিদা বাড়াতে কৃষি খাতে বড় বরাদ্দ এবং এমএসএমই (SME) খাতের জন্য বিশেষ প্রণোদনার আশা করা হচ্ছে।
-
পরিকাঠামো বিনিয়োগ: প্রবৃদ্ধির ধারা ধরে রাখতে সরকারি মূলধনী ব্যয় (Capex) আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকতে পারে।
“ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘গোল্ডিলকস’ বলা হলেও, যদি বেসরকারি বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান দ্রুত না বাড়ে, তবে এই প্রবৃদ্ধি টেকসই করা কঠিন হবে।” — অর্থনীতিবিদদের মত।