নিজস্ব প্রতিবেদক | নোয়াখালী
ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক ছাত্রীকে লঞ্চের কেবিনে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে নোয়াখালীর হাতিয়া। আজ মঙ্গলবার এ ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত পৃথক বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবং এনসিপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
ধর্ষণের বিবরণ ও মামলা
ভুক্তভোগীর পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মার্চ দুপুরে হাতিয়ার তমুরদ্দিন লঞ্চঘাট থেকে ফারহান-৪ লঞ্চযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন ওই কলেজছাত্রী। লঞ্চ ছাড়ার কিছুক্ষণ পর হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন (২৬) ও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু (৩২) কৌশলে ছাত্রীর কেবিনে প্রবেশ করেন।
সেখানে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ছাত্রীর মুখ চেপে ধরে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দুই দফায় ধর্ষণ করা হয়। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় ৯ মার্চ ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে ঢাকার কোতোয়ালি থানায় মামলা করলে পুলিশ অভিযুক্ত সাকিব ও মিঠুকে গ্রেপ্তার করে।
হাতিয়ায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ
এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার হাতিয়ায় পৃথক বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিএনপি ও এনসিপি। মিছিল দুটি মুখোমুখি হলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। এতে আহতরা হলেন:
-
বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন: উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াস, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম দুখু, যুবদল নেতা আশিক ও সাখাওয়াত হোসেন হিরো।
-
অন্যান্য পক্ষ: যুব শক্তির আহ্বায়ক ইউসুফ রেজা, ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক নেয়ামত উল্লাহ নীরব ও সমর্থক জহির উদ্দিন।
প্রশাসনের বক্তব্য
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “বিক্ষোভ মিছিলে উভয় পক্ষের হাতাহাতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ বিষয়ে কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”