
নিজস্ব প্রতিবেদক | খুলনা
খুলনার ভৈরব নদ থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা যুবকের পরিচয় মিলেছে। নিহতের নাম রাজীব হোসেন ওরফে ‘ঘাউড়া রাজীব’। পুলিশ জানিয়েছে, রাজীব নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠন ‘পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল)’-এর একজন সক্রিয় ক্যাডার ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও ডাকাতিসহ অন্তত ১৪টি মামলা রয়েছে।
আজ শনিবার দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে রাজীবের লাশ তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) খুলনার ৬ নম্বর ঘাট এলাকায় ভৈরব নদে দুটি লাইটার ভেসেলের মাঝখান থেকে একটি ভাসমান লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। দীর্ঘ এক সপ্তাহ নিখোঁজ থাকার পর লাশটি ফুলেফেঁপে যাওয়ায় প্রথমে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন ছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে শনাক্ত করেন।
খুলনা নৌ পুলিশ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আক্তার জানান:
রাজীবের মাথার পেছনে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই আঘাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
গত ৩ জানুয়ারি থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পুলিশের অনুমান, নিখোঁজ হওয়ার দিনই তাঁকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
রাজীবের বিরুদ্ধে খুলনার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। অপরাধ করার পর তিনি গোপালগঞ্জের মোকছেদপুরে তাঁর মামাবাড়িতে আত্মগোপন করতেন।
রাজীবের দ্বিতীয় স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন জানান, গত শনিবার রাতে একটি ফোন কল পেয়ে ‘বিকাশ থেকে টাকা তোলার’ কথা বলে বাসা থেকে বের হন রাজীব। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ফারহানা আরও জানান, বিয়ের সময় রাজীবের অপরাধ জগতের কথা তিনি জানতেন না। পরে জানতে পারেন রাজীবের বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ৭টি এখনো চলমান।
অন্যদিকে, রাজীবের প্রথম স্ত্রী লিয়া খাতুন জানান, ২০১৬ সালে তাঁদের বিয়ে হলেও চার বছর আগে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।
নৌ পুলিশ জানায়, লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পরিবার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা হবে।