ঢাকা, [তারিখ]:
পরিবারের ভাগ্য বদলানোর আশায় ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করে আসছিলেন সিয়াম মজুমদার (২১)। ঋণগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা করতে চার বছর আগে খুলনা থেকে ঢাকায় আসেন তিনি। নিউ ইস্কাটনের একটি মোটরকার ডেকোরেশন দোকানে কাজ করে সংসারের হাল ধরেন। ঋণ শোধের পর বিদেশে যাওয়ার স্বপ্নও ছিল তাঁর। কিন্তু সেই স্বপ্ন থেমে গেল মগবাজার ফ্লাইওভারে ছোড়া ককটেলের বিস্ফোরণে।
গত বুধবার সন্ধ্যার পর মগবাজার ফ্লাইওভার এলাকা থেকে ছোড়া একটি ককটেলের বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই নিহত হন সিয়াম। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওপর থেকে ছোড়া বিস্ফোরকটি তাঁর মাথায় আঘাত করে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় এসে সিয়ামের বাবা আলী আকবর মজুমদার রিকশা চালানো শুরু করেন। মা সিজু বেগম বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ নেন। ছোট ভাই সেজান মজুমদারও ইস্কাটন এলাকায় একটি গাড়ির ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। পরিবারের সবাই মিলে ঋণমুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছিলেন সিয়াম।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নিউ ইস্কাটনের দুই হাজার গলির ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখা যায়, শোকে ভেঙে পড়েছেন সিয়ামের মা সিজু বেগম। বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন, ঢাকায় এসে তাঁদের সব শেষ হয়ে গেছে। তিনি ছেলের হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
ছোট ভাই সেজান মজুমদার বলেন, পরিবারের আর্থিক সংকট কাটিয়ে ভাই বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হঠাৎ এই মৃত্যু পুরো পরিবারকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ছেলের মরদেহ নিতে গিয়ে বাবা আলী আকবর মজুমদার বলেন, ভাগ্য বদলাতে ঢাকায় এসে ছেলেকে হারাতে হবে—এমনটা জানলে তিনি কখনোই ঢাকায় আসতেন না।
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ জানায়, বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটে মগবাজার ফ্লাইওভার থেকে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীদের ছোড়া বিস্ফোরকদ্রব্যের আঘাতে সিয়াম মজুমদার নিহত হন। ঘটনার সময় তিনি মগবাজার-নিউ ইস্কাটন সড়কে কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিলের সামনে অবস্থান করছিলেন।
ঘটনাস্থলের এক চা-দোকানি মো. ফারুক বলেন, চা বানানোর সময় হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। পরে দেখা যায়, সিয়াম মাটিতে পড়ে আছেন।
এ ঘটনায় সিয়ামের বাবা হাতিরঝিল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মর্তুজা জানান, এখনো কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে।