
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলগ্রহের বায়ুমণ্ডলে প্রথমবারের মতো বজ্রপাতের মতো বৈদ্যুতিক ক্রিয়াকলাপ শনাক্ত হয়েছে। নাসার পাঠানো পারসিভিয়ারেন্স রোভার মঙ্গলের জেজেরো ক্রেটারে অবতরণ করার পর থেকেই জীবনের সম্ভাব্য চিহ্ন ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করছে।
ফ্রান্সের গবেষকরা রোভারের ২৮ ঘণ্টার অডিও রেকর্ডিং বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, বৈদ্যুতিক বিচ্ছুরণ সাধারণত মঙ্গলের ডাস্ট ডেভিল বা ধুলিঝড়ের সামনের অংশে ঘটে। ডাস্ট ডেভিলের অভ্যন্তরীণ ঘর্ষণে বৈদ্যুতিক চার্জ তৈরি হয়, যা বজ্রপাতের ইঙ্গিত দেয়।
বৈজ্ঞানিক দলের প্রধান লেখক ড. ব্যাপ্টিস্ট চিদে বলেন, “এটি মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল, জলবায়ু, সম্ভাব্য বাসযোগ্যতা এবং ভবিষ্যতের রোবোটিক ও মানব অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।” মঙ্গল এখন পৃথিবী, শনি ও বৃহস্পতির মতো গ্রহগুলির তালিকায় যুক্ত হলো, যেখানে বায়ুমণ্ডলীয় বজ্রপাত কার্যক্রম নিশ্চিত।
তবে পার্টিকল ফিজিসিস্ট ড. ড্যানিয়েল প্রিটচার্ড সতর্ক করেছেন, দৃশ্যমান প্রমাণ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক চলতে পারে।
এর আগে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে মঙ্গলের কিছু শিলায় ‘লেপার্ড স্পট’ ও ‘পপি সিড’ নামে দাগের মধ্যে এমন খনিজ পাওয়া গেছে যা প্রাচীন জীবাণুর উপস্থিতির সম্ভাবনা দেখায়।
মঙ্গল বর্তমানে শীতল ও শুষ্ক মরুভূমি হলেও বিলিয়ন বছর আগে এখানে ঘন বাতাস, নদী-নালা ও হ্রদ ছিল। তাই পারসিভিয়ারেন্স রোভার অনুসন্ধান বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।