আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথগুলোতে যুদ্ধকালীন সতর্কতা জারি করেছে ওয়াশিংটন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, মার্কিন পরিবহন দপ্তর এক জরুরি নির্দেশনায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পারস্য উপসাগরসহ সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
নির্দেশনার মূল পয়েন্টগুলো:
-
বিপজ্জনক এলাকা: হরমুজ প্রণালি, পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরে সামরিক তৎপরতা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব এলাকা এখন উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ।
-
দূরত্ব বজায় রাখা: যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী বা মালিকানাধীন জাহাজগুলোকে মার্কিন রণতরী থেকে অন্তত ৫৬ কিলোমিটার (৩০ নটিক্যাল মাইল) দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়েছে, যাতে ভুলবশত কোনো ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হতে না হয়।
-
কাতার উপকূলে অচলাবস্থা: পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কাতারের পরিবহন মন্ত্রণালয় তাদের উপকূলে সব ধরনের জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।
কেন এই নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ?
১. বাণিজ্যিক বিপর্যয়: হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী। এটি এড়িয়ে চলার অর্থ হলো পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে কয়েক হাজার মাইল পথ ঘুরে বিকল্প পথে যেতে হবে, যা পরিবহন খরচ এবং সময় বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। ২. ভুলবশত হামলার ঝুঁকি: মার্কিন মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মনে করছে, বর্তমানে সাগরে ড্রোন ও কামিকাজে হামলার যে তীব্রতা, তাতে যেকোনো বাণিজ্যিক জাহাজ ভুল নিশানায় পরিণত হতে পারে। ৩. সরবরাহ চেইন ব্যাহত: এই নির্দেশনার ফলে বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্য, ইলেকট্রনিক্স এবং বিশেষ করে জ্বালানি তেলের সরবরাহ চেইন পুরোপুরি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
বিশ্লেষকদের অভিমত
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা এই নির্দেশনার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নিয়েছে যে, এই অঞ্চলে ইরানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা এখনও প্রবল। বিশেষ করে সমুদ্রপথে ইরানের ড্রোন ও খনি (Mines) হামলার ভয়ে পশ্চিমা বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখন বড় ধরনের অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।