সুনির্মল সেন, সিলেট | ৩ মার্চ, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-মার্কিন উত্তজনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চরম নিরাপত্তা সংকটে পড়েছেন সেখানে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনায় সিলেট অঞ্চলের প্রবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে বিরাজ করছে অসহনীয় মানসিক যন্ত্রণা ও অনিদ্রার রাত।
আবুধাবি ও রিয়াদে আতঙ্ক
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার শানু (৩৮) দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে আবুধাবি এয়ারপোর্টের কাছে বসবাস করছেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক হামলায় আবুধাবি বিমানবন্দর এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। যদিও তারা এখন পর্যন্ত নিরাপদে আছেন, তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে সরকারিভাবে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।
একই চিত্র সৌদি আরবের রিয়াদেও। সিলেট নগরীর জেল রোড এলাকার বাসিন্দা জাহেদ আহমদ রিয়াদ থেকে জানিয়েছেন, শহরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা করছেন।
সিলেটী প্রবাসীর মৃত্যু ও স্বজনদের উদ্বেগ
ইতোমধ্যে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সালেহ নামে এক প্রবাসী এই সংঘাতের বলি হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এই মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে মৌলভীবাজার, সিলেট ও সুনামগঞ্জের ঘরে ঘরে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সারাক্ষণ প্রিয়জনের খোঁজ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন স্বজনরা।
হামলার প্রেক্ষাপট
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েল ও মার্কিন হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব নিহতের ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইরান পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারের মতো দেশগুলোতে থাকা প্রবাসীরাও এখন ঝুঁকির মুখে। মূল অধিবাসীদের চেয়ে প্রবাসী শ্রমিকরাই এই পরিস্থিতিতে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
পরিবার ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
সিলেটে অবস্থানরত প্রবাসীদের পরিবারের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন সংকটের এই সময়ে কেউ কৌতূহলবশত ক্ষেপণাস্ত্র দেখতে ঘরের বাইরে বের না হন। নিরাপদ স্থানে অবস্থান এবং স্থানীয় সরকারের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলাই এখন জীবন রক্ষার একমাত্র পথ।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
-
সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের দেওয়া নিরাপত্তা গাইডলাইন কঠোরভাবে অনুসরণ করা।
-
আতঙ্কিত না হয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ রাখা।
-
প্রয়োজন ছাড়া কর্মস্থলের বাইরে বা খোলা জায়গায় অবস্থান না করা।