ক্রীড়া ডেস্ক | আন্তর্জাতিক
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলা ও যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গন। একদিকে যেমন কাতার ও দুবাইয়ে নির্ধারিত ম্যাচগুলো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে ক্রিকেট ও ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।
ফিনালিসিমা নিয়ে শঙ্কা
আগামী ২৭ মার্চ কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে ফুটবলের দুই পরাশক্তি স্পেন ও আর্জেন্টিনা ‘ফিনালিসিমা’ ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার কথা। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ে এই ম্যাচ মাঠেড়ানো নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফিফা মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম জানিয়েছেন, তারা নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং এখনই চূড়ান্ত কিছু বলার সময় আসেনি।
২০২৬ বিশ্বকাপ ও ফিফার অবস্থান
২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য ৪৮ দলের বিশ্বকাপ নিয়েও চিন্তিত ফিফা। কারণ, এই বিশ্বকাপে ইরান অন্যতম অংশগ্রহণকারী দেশ। ফিফা মহাসচিব বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য নিরাপদে বিশ্বকাপ আয়োজন করা। আমরা তিন আয়োজক দেশের সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই।” তবে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে সূচিতে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
দুবাইয়ে আটকা ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা
মধ্যপ্রাচ্যের পাল্টাপাল্টি হামলায় দুবাইয়ের পাম জুমেইরা রিসোর্ট আক্রান্ত হওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। আমিরাতের আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়ায় ইংল্যান্ড লায়ন্সের ২৫ সদস্যের একটি বহর বর্তমানে দুবাইয়ে আটকা পড়েছে। যুদ্ধের কারণে ওই অঞ্চলের বিমান চলাচল ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
উদ্বেগে আইসিসি
চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের লজিস্টিকস ও যাতায়াত ব্যবস্থা মূলত দুবাই ও দোহা কেন্দ্রিক। আইসিসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, খেলোয়াড়, ম্যাচ অফিশিয়াল, ব্রডকাস্ট টিম এবং ইভেন্ট স্টাফদের একটি বড় অংশ যাতায়াতের জন্য দুবাইয়ের ট্রানজিট পয়েন্ট ব্যবহার করে। আকাশপথ বন্ধ থাকায় টুর্নামেন্ট শেষে তাদের নিজ দেশে ফেরা এবং লজিস্টিক সাপ্লাই চেইন বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।