
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | কুয়েত সিটি ও আবুধাবি
ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের ৩৫তম দিনে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো। শুক্রবার কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের গ্যাস স্থাপনায় বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। পাল্টাপাল্টি এই হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও জীবনরক্ষাকারী অবকাঠামো এখন চরম হুমকির মুখে।
শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরে কুয়েতের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্টে হামলা চালায় শত্রুপক্ষ। কুয়েত কর্তৃপক্ষ হামলার সত্যতা নিশ্চিত করলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানায়নি। উল্লেখ্য, গত ৩০ মার্চ একই ধরনের হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছিলেন।
এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ভোরে ড্রোন হামলায় লক্ষ্যবস্তু করা হয় কুয়েতের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধনাগার মিনা আল-আহমাদি। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘কুনা’ জানিয়েছে, হামলায় শোধনাগারের কয়েকটি ইউনিটে আগুন ধরে গেলেও কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। আল জাজিরার তথ্যমতে, এই শোধনাগারটি এ নিয়ে তিনবার হামলার শিকার হলো। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইরান থেকে মাত্র ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কুয়েত এখন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটি নতুন করে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মুখে পড়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৬টি ড্রোন ভূপাতিত করলেও, একটি প্রজেক্টাইলের ধ্বংসাবশেষ সরাসরি হাবশান গ্যাস স্থাপনায় পড়ে আগুন ধরে যায়। আবুধাবি কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ওই স্থাপনার কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে। আমিরাতের দেওয়া তথ্যমতে, এই দফার হামলায় এখন পর্যন্ত ২ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত এবং ১৯১ জন আহত হয়েছেন।
যুদ্ধের আঁচ এবার লেগেছে বৈশ্বিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ দাবি করেছে, দুবাইয়ে মার্কিন কোম্পানি ওরাকল (Oracle)-এর একটি ডেটা সেন্টারে তারা হামলা চালিয়েছে। ১ এপ্রিল ইসরায়েলি হামলায় সাবেক ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্ত্রী নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি তেহরানের। যদিও দুবাই মিডিয়া অফিস এই খবরকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে আমাজন ওয়েব সার্ভিস (AWS) নিশ্চিত করেছে যে, আমিরাত ও বাহরাইনে তাদের তিনটি ডেটা সেন্টার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগিরি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালায়, তবে তেহরানও আঞ্চলিক জ্বালানি ও টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা অব্যাহত রাখবে।
অন্যদিকে, উপসাগরীয় অঞ্চলে এই অস্থিরতার জন্য ইসরায়েল ও ইরান একে অপরকে দায়ী করছে। সৌদি আরব ও বাহরাইনও উচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে; গত রাতেও তারা একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে।