
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৮ এপ্রিল, ২০২৬
ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধের উত্তাপ আপাতত থিতিয়ে আসায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে বিশ্ববাসী। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ইউরোপ, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ নেতারা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি, সিএনএন এবং আল জাজিরার তথ্যমতে, বিশ্বনেতারা এখন এই সাময়িক বিরতিকে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপান্তরের জোর আহ্বান জানাচ্ছেন।
জাতিসংঘ ও রাশিয়া: জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার এবং স্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ক্রেমলিন এই যুদ্ধবিরতিকে ইউক্রেন বিষয়ে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে। রুশ মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ আশা প্রকাশ করেছেন যে, শান্তি আলোচনা অব্যাহত রাখতে ওয়াশিংটন ও তেহরান সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করবে।
ইউরোপীয় নেতাদের অবস্থান: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিরতির মাঝেই একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর গুরুত্বারোপ করেছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ যুদ্ধবিরতির পরিধি বাড়িয়ে লেবাননকেও এর অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তবে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ কিছুটা ভিন্ন সুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছেন, বিশ্বে আগুন জ্বালানোর পর কেবল একটি 'ফুলের তোড়া' নিয়ে হাজির হলেই সব মিটে যায় না।
ভারত ও এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল: ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছে। মোদী সরকার শুরু থেকেই কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দিয়ে আসছিল। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং জাপানও এই পদক্ষেপকে ‘ইতিবাচক’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রশংসা করেছে।
মিসর জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি কূটনীতির জন্য একটি ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ’। পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে যৌথভাবে কায়রো এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে কাজ করে যাবে। এছাড়া মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ইরাক এই যুদ্ধবিরতিকে সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও উত্তেজনা হ্রাসের একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
বিশ্বজুড়ে যখন স্বস্তির জোয়ার, ঠিক তখন ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে ইসরায়েলে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই হঠাৎ যুদ্ধবিরতির খবরে দেশটিতে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিস্ময় তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।
আপাতত যুদ্ধ থামায় হরমুজ প্রণালি ও আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বিশ্বনেতাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপ নেয় কি না।