২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৩ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে ১০% বৃদ্ধি, ১০০ ডলার ছাড়ানোর শঙ্কা

admin
প্রকাশিত ০১ মার্চ, রবিবার, ২০২৬ ২২:১৭:১৯
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে ১০% বৃদ্ধি, ১০০ ডলার ছাড়ানোর শঙ্কা

Manual2 Ad Code

অর্থনীতি ডেস্ক | আন্তর্জাতিক

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে। আজ রোববার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম দ্রুত ১০০ ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে যেতে পারে।

Manual1 Ad Code

হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রভাব

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়াকে। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশেরও বেশি এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তেহরানের পক্ষ থেকে জাহাজ চলাচলে সতর্কবার্তা দেওয়ার পর বড় তেল কোম্পানি ও ট্যাংকার মালিকরা এই রুট দিয়ে অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি সরবরাহ স্থগিত করেছে।

Manual4 Ad Code

এনার্জি রিসার্চ প্রতিষ্ঠান আইসিআইএসের পরিচালক অজয় পারমার বলেন,

“সামরিক হামলার চেয়েও বড় প্রভাব ফেলছে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া। সোমবার নিয়মিত লেনদেন শুরু হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি বা তার ওপরেও চলে যেতে পারে।”

সরবরাহ ঘাটতির শঙ্কা

রাইস্ট্যাড এনার্জির অর্থনীতিবিদ জর্জ লিওন জানিয়েছেন, বিকল্প পাইপলাইন ব্যবহারের চেষ্টা করা হলেও বাজারে দৈনিক ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাঁর মতে, বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই দাম ব্যারেলপ্রতি অন্তত ২০ ডলার বেড়ে ৯২ ডলারে ঠেকতে পারে।

Manual4 Ad Code

ওপেক প্লাস ও এশিয়ার দেশগুলোর উদ্যোগ

উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস (OPEC+) আগামী এপ্রিল থেকে দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল বাড়তি তেল উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিমাণ বিশ্ব চাহিদার মাত্র ০.২ শতাংশ হওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়বে খুবই সামান্য।

এদিকে, জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় ভারত ও চীনের মতো এশিয়ার দেশগুলো বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করেছে। সরবরাহ নিশ্চিত না হলে ভারত আবারও বড় পরিসরে রাশিয়ার তেলের দিকে ঝুঁকতে পারে বলে ধারণা করছে গবেষণা সংস্থা কেপলার।

Manual2 Ad Code


প্রাসঙ্গিক নোট: মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও পরিবহন খরচ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।