আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৬ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ‘সীমিত ও লক্ষ্যভিত্তিক’ স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস এবং সীমান্তবর্তী ইসরায়েলি বসতিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ (ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী)।
অভিযানের পরিধি ও সামরিক কৌশল
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের ৯১তম ডিভিশন লেবাননের অভ্যন্তরে অভিযান শুরু করেছে। বর্তমানে তিনটি ইসরায়েলি ডিভিশন এই অভিযানে অংশ নিয়েছে এবং আরও দুটি ডিভিশন মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে। আইডিএফ মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শশানি দাবি করেছেন, হিজবুল্লাহর রাদওয়ান বাহিনীর শতাধিক যোদ্ধা সীমান্তে অবস্থান করছে এবং প্রতিদিন শত শত রকেট নিক্ষেপ করছে, যা এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইসরায়েল কৌশলগতভাবে লিতানি নদী পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছে, যা লেবাননের সার্বভৌমত্বের জন্য বড় হুমকি।
হতাহত ও মানবিক বিপর্যয়
ইসরায়েলি বিমান হামলা ও স্থল অভিযানের ফলে লেবাননে মানবিক বিপর্যয় চরমে পৌঁছেছে। লেবানন কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:
-
নিহত: এখন পর্যন্ত অন্তত ৮৫০ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে ১০৭ জন শিশু। সোমবারের হামলায় দুই প্যারামেডিকসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন।
-
বাস্তুচ্যুত: প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
-
ইসরায়েলি ক্ষয়ক্ষতি: এই সংঘাতের তীব্রতায় ইসরায়েলি বাহিনীর দুই সেনার মৃত্যু হয়েছে।
সংঘাতের প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডের জেরে দুই সপ্তাহ আগে হিজবুল্লাহর পাল্টা রকেট ও ড্রোন হামলার পর থেকেই এই সংঘাত নতুন মাত্রা পায়। ইসরায়েল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত এই সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় উত্তরের ইসরায়েলি সীমান্ত অঞ্চলে বারবার সাইরেন বাজলেও এখন পর্যন্ত সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আঞ্চলিক বিশ্লেষকদের মতে, এই স্থল অভিযান যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা শুধুমাত্র ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি পূর্ণমাত্রার আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করেছে।