
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ওয়াশিংটন ডি.সি. ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে দেশটির পেট্রল পাম্পগুলোতে গ্যাসোলিনের দাম হু হু করে বেড়ে গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়েছে। গাড়িচালকদের সংগঠন আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ) জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ, ২০২৬) সকাল পর্যন্ত গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৪.১৮ ডলার, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
মাত্র এক মাস আগে ফেব্রুয়ারির শেষেও যেখানে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের দাম ছিল ৩ ডলারের নিচে, সেখানে হঠাৎ এই উল্লম্ফন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ওপর ব্যাপক রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের পর জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতা অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।
ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্যমতে, এর আগে ২০২২ সালের আগস্টে দাম ৪ ডলার ছাড়িয়েছিল। তবে ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে এই দাম সর্বোচ্চ ৫ ডলারে পৌঁছেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে গ্যাসোলিনের দাম সবচেয়ে বেশি ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে। শীর্ষ তিন ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্য হলো:
ক্যালিফোর্নিয়া: ৫.৮৮ ডলার (গ্যালনপ্রতি)
হাওয়াই: ৫.৪৫ ডলার
ওয়াশিংটন: ৫.৩৪ ডলার
বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে চরম শঙ্কা এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ। ইরান কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র প্রধানত কানাডা ও মেক্সিকো থেকে তেল আমদানি করে, তবুও বৈশ্বিক বাজারের আন্তঃনির্ভরতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতার প্রভাব এড়ানো যাচ্ছে না।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আশাবাদ ব্যক্ত করলেও ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সংকট দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপসহ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। সামনে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুম (Summer Travel Season) থাকায় এই মূল্যবৃদ্ধি মার্কিন ভোক্তাদের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।