
ডেস্ক রিপোর্ট, নয়াদিল্লি | ৩ মার্চ, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং এর ফলে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জরুরি বৈঠকে বসেছে ভারতের নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি (CCS)। রবিবার (১ মার্চ) রাত ৯টায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনে দেশের কৌশলগত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এই সর্বোচ্চ সংস্থার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন:
অমিত শাহ (কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী)
রাজনাথ সিং (প্রতিরক্ষামন্ত্রী)
নির্মলা সীতারমণ (কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী)
এস জয়শঙ্কর (বিদেশমন্ত্রী)
অজিত ডোভাল (জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা)
জেনারেল অনিল চৌহান (চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ)
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব পি.কে. মিশ্র, রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস এবং বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি।
বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসকারী এবং আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা। সামরিক অভিযানের কারণে বিমান পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় দুবাই, দোহাসহ অঞ্চলের বিভিন্ন বিমানবন্দরে কয়েকশ ভারতীয় নাগরিক আটকা পড়েছেন। তারা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে উদ্ধারের আকুতি জানিয়েছেন। সরকার তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করেছে।
বৈঠকে ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার আশঙ্কার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। উল্লেখ্য যে, এই পথটি বন্ধ হয়ে গেলে ভারতীয় তেলবাহী জাহাজ চলাচল কার্যত স্তব্ধ হয়ে যাবে। ফলে ভারতের জ্বালানি বাজারে যে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে, তা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন নীতিনির্ধারকরা।
সরকারি তথ্যমতে:
ইরানে: প্রায় ১০,০০০ ভারতীয় বসবাস ও পড়াশোনা করছেন।
ইসরায়েলে: ৪০,০০০ এর বেশি ভারতীয় অবস্থান করছেন।
সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চলে: প্রায় ৯০ লক্ষ ভারতীয় কর্মরত আছেন।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা ভারতীয় দূতাবাসগুলো এই বিপুল সংখ্যক প্রবাসীর সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান বা 'ইভাকুয়েশন প্ল্যান' বাস্তবায়নের রূপরেখা এই বৈঠকেই চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।