
মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে জাফলংয়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ, কালা মানিককে ঘিরে তোলপাড়
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটননগরী জাফলংয়ের চা বাগান, বৈদ্যুতিক টাওয়ার ও সেতু সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন, চাঁদাবাজি এবং জাতীয় সম্পদ ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগের তীর এখন কালা মানিক নামে পরিচিত এক ব্যক্তিকে ঘিরে।
অভিযোগ রয়েছে, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর নাম ব্যবহার করে একটি প্রভাবশালী চক্র জাফলং নদী ও আশপাশের এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে। এ সুযোগে নদী থেকে অবাধে বালু-পাথর উত্তোলন, পরিবহন নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন মহল থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও সামনে এসেছে।
স্থানীয়দের দাবি, চা বাগানের ভেতর ও সংলগ্ন এলাকায় ভারী যানবাহন চলাচল এবং অবৈধ উত্তোলনের কারণে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। জাতীয় সম্পদ হিসেবে পরিচিত জাফলংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদী ও চা বাগান হুমকির মুখে পড়লেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যদি এসব কর্মকাণ্ড সত্যিই সংঘটিত হয়ে থাকে, তাহলে স্থানীয় প্রশাসনের নজর এড়িয়ে তা কীভাবে চলছে? আর কালা মানিকের মতো একজন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কীভাবে এতটা প্রভাবশালী হয়ে উঠল যে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে অবৈধ সুবিধা আদায় বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে থাকে, তাহলে তা শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, চা বাগান কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা জাফলংয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জাতীয় সম্পদ রক্ষায় জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এব্যাপারে জানতে কালা মানিকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পাওয়া যায়নি।
(দ্রষ্টব্য: উল্লিখিত অভিযোগগুলো স্থানীয়দের দাবি ও অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপিত।