ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সদস্যপদ স্থগিত হওয়া জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক জসিম উদ্দিন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। একই আসনে জামায়াতের দলীয় মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির কামরুল হাসান মিলন।
এ ছাড়া বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন আখতারুল আলম ফারুক। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন খেলাফত মজলিসের মো. রফিকুল ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলনের মো. নূরে আলম সিদ্দিকী।
অন্যদিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবেও একাধিক ব্যক্তি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁরা হলেন প্রয়াত প্রকৌশলী শামছ উদ্দিনের স্ত্রী অধ্যক্ষ আখতার সুলতানা, তাঁদের ছেলে তানভীর আহমেদ রানা এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল করিম।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম জানান, এই আসনে নির্বাচনের জন্য মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এর মধ্যে আটজন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামী ময়মনসিংহ জেলা নায়েবে আমির কামরুল হাসান মিলনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার পর অধ্যাপক জসিম উদ্দিনের সমর্থকেরা প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে কর্মসূচি পালন করেন। তাঁরা ‘ফুলবাড়িয়া ঐক্যবদ্ধ জনতা’র ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে অধ্যাপক জসিম উদ্দিনের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সদস্যপদ (রুকনিয়াত) স্থগিত করে জামায়াতে ইসলামী।
এ বিষয়ে অধ্যাপক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘দল আমাকে মূল্যায়ন না করলেও মানুষের ভালোবাসায় প্রার্থী হয়েছি। নির্বাচনে সাধারণ মানুষ আমার ওপর আস্থা রাখবে।’
উল্লেখ্য, একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১২ হাজার ৮৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৪৭৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৭ হাজার ৩৬২ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন দুজন।