
সুনির্মল সেন | সিলেট তারিখ: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র এক সপ্তাহেরও কম সময় বাকি। প্রচারণার শেষ মুহূর্তে এসে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ‘মর্যাদার আসন’ হিসেবে পরিচিত সিলেট-১ আসনে দীর্ঘদিনের মিত্র বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা এখন একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।
নির্বাচনী মাঠের সর্বশেষ পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এখন বিএনপির বিরুদ্ধে জোরালো বিষোদগার শুরু করেছে। সিলেট-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীরের ‘ব্যাংক ঋণ’ সংক্রান্ত বিষয়টিকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে জামায়াত।
বৃহস্পতিবার সিলেট নগরীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মহানগর জামায়াতের আমির মো. ফখরুল ইসলাম সরাসরি খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীরকে ‘ঋণ খেলাপি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের সমর্থকরা এই ইস্যুটিকে ভোটার ও গণমাধ্যমের সামনে বড় করে তুলে ধরছেন।
জামায়াতের লাগাতার আক্রমণের মুখে এতদিন বিএনপি কিছুটা নমনীয় থাকলেও এখন তারাও কঠোর ভাষায় জবাব দিতে শুরু করেছে। বিভিন্ন জনসভায় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর এবং মহানগর বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জামায়াতের রাজনীতির সমালোচনা করছেন।
বিএনপি নেতাদের পাল্টা অভিযোগ:
একটি নির্দিষ্ট দল (জামায়াত) ক্রমাগত মিথ্যাচার করে যাচ্ছে।
তারা জনগণকে ‘বেহেশতের লোভ’ দেখিয়ে ভোট ভিক্ষা করছে।
বিএনপি নেতৃবৃন্দ প্রশ্ন তুলেছেন, ধর্মীয় আবেগ ব্যবহারকারীরা আসলে ‘আল্লাহকে ভয় করেন কি না’।
সিলেট-১ আসনে সাধারণত বড় দলগুলোর মধ্যে সৌজন্যবোধ বজায় থাকলেও এবারের নির্বাচনে সেই চিত্র উধাও। একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও ধর্মীয় তর্কের এই লড়াই সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বেশ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। চায়ের কাপে এখন আলোচনার মূল তুঙ্গে—শেষ পর্যন্ত মর্যাদার এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবেন।