মুম্বাই ডেস্ক | শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় স্বামী ও এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর পর মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তাঁর স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার। শনিবার বিকেলে মুম্বাইয়ের লোক ভবনে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রত তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান।
আবেগঘন শপথ অনুষ্ঠান
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এনসিপি (জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি) কর্মীরা ‘অজিত দাদা অমর রহে’ স্লোগানে রাজপথ ও অনুষ্ঠানস্থল মুখরিত করে তোলেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনবিশ এবং আরেক উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দেসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
গত ২৮ জানুয়ারি বারামতিতে এক বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ার নিহত হওয়ার পর বিধায়করা সর্বসম্মতিক্রমে সুনেত্রাকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় সুনেত্রা পাওয়ারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “মহারাষ্ট্রের প্রথম নারী উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় সুনেত্রা পাওয়ারজিকে অভিনন্দন। আমি নিশ্চিত তিনি জনকল্যাণে নিবেদিত থাকবেন এবং প্রয়াত অজিতদাদার স্বপ্ন পূরণ করবেন।”
দপ্তর বণ্টন ও রাজনৈতিক সমীকরণ
উপমুখ্যমন্ত্রীর পদের পাশাপাশি সুনেত্রাকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে:
-
আবগারি শুল্ক
-
ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ
-
সংখ্যালঘু উন্নয়ন
তবে অজিত পাওয়ারের হাতে থাকা অত্যন্ত শক্তিশালী অর্থ ও পরিকল্পনা দপ্তরটি নিজের কাছে রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনবিশ।
এক নজরে সুনেত্রা পাওয়ারের পরিচিতি
-
জন্ম: ১৯৬৩ সালে ধারাশিবের (উসমানাবাদ) এক প্রভাবশালী পরিবারে।
-
রাজনীতি ও সমাজসেবা: সরাসরি রাজনীতির চেয়ে সমাজসেবায় বেশি পরিচিত। তিনি ‘এনভায়রনমেন্টাল ফোরাম অফ ইন্ডিয়া’-এর প্রতিষ্ঠাতা।
-
বর্তমান পদ: তিনি বর্তমানে রাজ্যসভারও একজন সম্মানিত সদস্য।
দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত বুধবার সকালে মুম্বাই থেকে পুনে যাওয়ার পথে লিয়ারজেট-৪৫ উড়োজাহাজটি ঘন কুয়াশার কারণে বারামতি বিমানবন্দরের কাছে বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারসহ বিমানে থাকা পাইলট ও নিরাপত্তাকর্মীরা প্রাণ হারান।
একটি পর্যবেক্ষণ: ভারতের মহারাষ্ট্রের এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং বাংলাদেশের সিলেটের নির্বাচনী বিশ্লেষণের মধ্যে একটি মিল লক্ষ্য করা যায়—উভয় ক্ষেত্রেই পারিবারিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকারের প্রভাব স্পষ্ট।