
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
ভারতের মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে অন্তত ১৮০ জন কিশোরীকে যৌন নিপীড়ন এবং ৩৫০টিরও বেশি অশ্লীল ভিডিও ধারণের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের নাম মোহাম্মদ আয়াজ ওরফে তানভীর। পরতওয়াদা শহরের এই বাসিন্দার বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেল এবং দেহব্যবসায় বাধ্য করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তানভীর কিশোরীদের ‘প্রেমের ফাঁদে’ ফেলে মুম্বাই ও পুনেতে নিয়ে যেত। সেখানে তাদের অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে পরে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করত। এভাবে অভিযুক্ত অনেক কিশোরীকে দেহব্যবসায় নামতে বাধ্য করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর রাজ্যসভার সদস্য অনিল বোন্ডে পুলিশ সুপার বিশাল আনন্দের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। তিনি জানান, হোয়াটসঅ্যাপ ও স্ন্যাপচ্যাট গ্রুপের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে নাবালিকাদের লক্ষ্যবস্তু করা হতো। বোন্ডে এই ঘটনার তদন্তে দ্রুত একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠনের দাবি জানান এবং ব্যবস্থা না নিলে বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দেন।
লক্ষণীয় বিষয় হলো, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরাও থানায় উপস্থিত হন। তাঁরা স্পষ্ট জানান যে, কোনো ব্যক্তির একক অপকর্মের দায়ভার যেন পুরো সম্প্রদায়ের ওপর না পড়ে এবং দোষীকে যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তানভীরকে গ্রেপ্তার করে। আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
ডিভাইস জব্দ: পুলিশ অভিযুক্তের মোবাইল ফোন জব্দ করেছে, যেখানে বিপুল পরিমাণ আপত্তিকর ভিডিও পাওয়া গেছে।
সাইবার তদন্ত: সাইবার সেলের সহায়তায় এই ভিডিওগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কি না বা কোনো অপরাধী চক্রের কাছে পাঠানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অমরাবতী পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে তদন্ত কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।