
নিজস্ব প্রতিবেদক, মাগুরা | ১২ এপ্রিল, ২০২৬
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানের সময় আটক হওয়া আকুব্বর মোল্যা (৩৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার (১২ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় গ্রামবাসী ও অভিযানকারী দলের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে এবং এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নিহত আকুব্বর মোল্যা ওই গ্রামের মাজেদ মোল্যার ছেলে। তার পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আকুব্বরের স্ত্রী জোসনা বেগম অভিযোগ করে বলেন:
"আমার স্বামী ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি এসে তাঁকে বিছানা থেকে টেনে-হিঁচড়ে তোলেন। কোনো কথা না বলেই তাঁকে হাতকড়া পরানো হয় এবং মারধর করা হয়। সেই মারধরের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।"
অভিযানে অংশ নেওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক মোছা. শাহারা ইয়াসমিন দাবি করেন, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আকুব্বরের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আধা কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, "জিজ্ঞাসাবাদের সময় আকুব্বর অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা তাঁর হাতকড়া খুলে দিয়ে তাঁকে রেখে চলে আসি। আমরা চলে আসার সময় স্থানীয়রা আমাদের ওপর হামলা চালায়।"
আকুব্বরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযানকারী দলের ওপর চড়াও হয়। হামলায় উপপরিদর্শক মোছা. শাহারা ইয়াসমিন ও সদস্য মিথুন ব্যাপারীসহ অন্তত তিনজন আহত হন। খবর পেয়ে মহম্মদপুর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আকুব্বরকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাদিয়া ছকিনা ঝরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জানান, "হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে প্রাথমিক পরীক্ষায় তাঁর শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।"
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান জানান, নিহত আকুব্বর মোল্যার বিরুদ্ধে আগে থেকেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চারটি মামলা রয়েছে। তবে আজকের অভিযানে ঠিক কী ঘটেছিল, তা গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
মাগুরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু বকর জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।