২৩শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৯ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

মাছ লুট করা নিয়ে সংঘর্ষ: নদী থেকে ৩ জনের লাশ উদ্ধার

admin
প্রকাশিত ১০ মার্চ, সোমবার, ২০২৫ ২২:১৫:০৮
মাছ লুট করা নিয়ে সংঘর্ষ:  নদী থেকে ৩ জনের লাশ উদ্ধার

Manual8 Ad Code

নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে জলমহালের মাছ লুটে বাধা দেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় নিখোঁজ তিন ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার দুপুরে উপজেলার লেপসিয়া নৌ পুলিশ ও ময়মনসিংহের ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা ধনু নদীর নাওটানা অংশ থেকে তাঁদের লাশ উদ্ধার করেন।

Manual1 Ad Code

খালিয়াজুরীর লেপসিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত কর্মকর্তা (আইসি) জাহাঙ্গীর আলম খান লাশ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নদী থেকে উদ্ধার করা তিন ব্যক্তির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন মদন উপজেলার বাগজান গ্রামের রোকন মিয়া (৪৮), আটপাড়া উপজেলার স্বরমুসিয়া গ্রামের শহীদ মিয়া (৬০) ও কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ী এলাকার হৃদয় মিয়া (২২)। এ ছাড়া মদন উপজেলার ইয়াসিন (১৯) নামের এক যুবক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

Manual5 Ad Code

রোকন মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া বলেন, ‘আমার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’

নিহত ব্যক্তিদের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকালে খালিয়াজুরীর হাওরে ইজারা দেওয়া জলমহাল থেকে মাছ ধরতে কয়েকটি উপজেলার হাজারো মানুষ পলো ও জাল নিয়ে রসূলপুর খেয়াঘাটে জড়ো হন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি পক্ষ তাঁদের বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। এ সময় উত্তেজিত লোকজন শতাধিক যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।

ঘটনার একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িঘরে হামলা চালান। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনার পর মদন উপজেলার রোকন মিয়া, ইয়াসিন মিয়া, আটপাড়ার শহীদ মিয়া, কেন্দুয়ার হৃদয় মিয়াসহ বেশ কয়েকজন নিখোঁজ ছিলেন।

Manual4 Ad Code

উদ্ধার অভিযানে যাওয়া ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দলনেতা নুরুল আলম খান বলেন, ‘দুপুরে আমাদের পাঁচজনের একটি ডুবুরি দল ধনু নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আধা ঘণ্টা পর শহীদ মিয়ার লাশ পাওয়া যায়। কিছুক্ষণ পর হৃদয় মিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া আরেকজনের লাশ পায় নৌ পুলিশের একটি দল। তাঁর লাশ মেলে লেপসিয়া বাজার এলাকায়।’

Manual7 Ad Code

নুরুল আলম খান আরও বলেন, ‘আজকের মতো আমাদের উদ্ধারকাজ সমাপ্ত করে মদন উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে অবস্থান করছি। এখনো এক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁর লাশ নদীতে ডুবন্ত অবস্থায় থাকতে পারে। আমাদের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে যদি নির্দেশনা দেওয়া হয়, তাহলে আগামীকাল (মঙ্গলবার) ফজরের পর আবার উদ্ধারকাজ শুরু করব।’

নেত্রকোনার সহকারী পুলিশ সুপার (প্রশাসন) সাহেব আলী পাঠান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। যদিও গতকাল (রোববার) দুই পক্ষের লোকজন ঘোষণা দিয়ে মারামারির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কোনো ধরনের সংঘাত হয়নি। ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীও নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত রয়েছে।’