
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসনে লটারির মাধ্যমে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্বের সুযোগ রাখা হয়নি।
আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চার সদস্যের এক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন:
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া (কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান)
মনিরা শারমিন (সেক্রেটারি)
জহিরুল ইসলাম মূসা (আইনি সহায়তাবিষয়ক উপকমিটির প্রধান)
সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনকে প্রশ্নাতীত ও সুষ্ঠু করতে সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে:
সিসিটিভি ক্যামেরা: জানুয়ারির মধ্যে অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে।
বডি ওর্ন ক্যামেরা: ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের শরীরে ক্যামেরা থাকবে।
সরাসরি মনিটরিং: কন্ট্রোল রুম থেকে সমস্ত কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
"এই নির্বাচন দেশের ভাগ্য নির্ধারণের নির্বাচন। এই নির্বাচন দেশ পাল্টে দেওয়ার নির্বাচন। এই নির্বাচন সুষ্ঠু হতেই হবে।" — ড. মুহাম্মদ ইউনূস
বৈঠকে এনসিপি নেতারা আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তাঁদের প্রচারণার কথা জানান এবং নির্বাচনকালীন ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার দাবি তোলেন। এর জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, "গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট কেন প্রয়োজন, তা আমরা জনগণকে আইনসম্মতভাবেই বোঝাচ্ছি। নির্বাচন-সম্পর্কিত যেকোনো অভিযোগ পেলে সরকার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে।"
ড. ইউনূস আরও বলেন, একটি সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখা সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দল—সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। তিনি এ বিষয়ে সকল রাজনৈতিক দলের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেন।