আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৫ এপ্রিল, ২০২৬
দীর্ঘ ১৫ বছর মালয়েশিয়ার কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দী হিসেবে কাটানোর পর অবশেষে নিজ দেশ ইন্দোনেশিয়ায় ফিরেছেন ৬৬ বছর বয়সী এক নারী। মাদক পাচার চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে এই দীর্ঘ সময় তিনি বিদেশের কারাগারে মৃত্যুর প্রহর গুনেছেন। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, দরিদ্র অভিবাসী নারীদের কীভাবে মাদক পাচার চক্র শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, এটি তারই এক জ্বলন্ত উদাহরণ।
চাকরির প্রলোভন ও প্রতারণা
আসিহ নামের ওই নারী ২০১১ সালে প্রথমবার উন্নত জীবনের আশায় বিদেশ পাড়ি জমান। ‘দুউই’ নামের এক নারী তাঁকে মালয়েশিয়ায় উচ্চ বেতনে কেয়ারগিভারের কাজের প্রলোভন দেখান। তবে মানবপাচারকারীদের চিরাচরিত কৌশলে তাঁর পাসপোর্টে আসল নামের পরিবর্তে ‘আনি আংগ্রায়েনি’ নাম ব্যবহার করা হয় এবং ভ্রমণে আসল পরিচয় গোপন রাখতে বলা হয়।
যেভাবে ফেঁসে যান আসিহ
মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর আসিহকে একটি স্যুটকেস আনতে ভিয়েতনামে পাঠানো হয়। ২০১১ সালের ২১ জুন পেনাং বিমানবন্দরে ফেরার পর তাঁর ব্যাগে ৩.৮৭ কেজি মেথামফেটামিন (মাদক) পাওয়া যায়। তিনি জানতেন না যে তাঁর ব্যাগে মাদক রয়েছে। তবে তৎকালীন আইন অনুযায়ী পরের বছরই (২০১২) আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।
কারাজীবন ও অসুস্থতা
কারাগারে থাকাকালীন আসিহ প্রচণ্ড শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। এর মধ্যে তিনি এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং তাঁকে জটিল অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। মরণব্যাধির সাথে লড়াই করেও তিনি বেঁচে আছেন এবং দীর্ঘ দেড় দশক পর মুক্তির স্বাদ পেলেন।
মুক্তি ও ক্ষমা
সম্প্রতি পেনাং অঙ্গরাজ্যের গভর্নরের বিশেষ ক্ষমা লাভ করেন তিনি। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে, গত ১৯ মার্চ তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর তিনি কুয়ালালামপুর থেকে জাকার্তায় নিজ পরিবারের কাছে ফিরে যান।
মানবাধিকার সংগঠনের ভাষ্য
কুয়ালালামপুরভিত্তিক সংগঠন ‘হায়াত’ ও জাকার্তার লিগ্যাল এইড ইনস্টিটিউট জানিয়েছে:
“আসিহের ঘটনা কেবল একটি মাদক মামলার গল্প নয়; এটি প্রতারণা, শোষণ এবং অসহায়ত্বের এক করুণ চিত্র। এই নারীরা অপরাধের মূল পরিকল্পনাকারী নন, বরং তাঁরা একটি ব্যর্থ ব্যবস্থার শিকার।”
মালয়েশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি
২০২৩ সালে বাধ্যতামূলক মৃত্যুদণ্ড বাতিলের পর মালয়েশিয়ায় বিচারকদের রায়ের ক্ষেত্রে বিবেচনার সুযোগ বেড়েছে। ফলে মাদক-সংক্রান্ত মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির সংখ্যা ২০২৪ সালের ৭০৫ জন থেকে ২০২৫ সালে মাত্র ৪০ জনে নেমে এসেছে। বর্তমানে আরও আটজন ইন্দোনেশীয় নারী মালয়েশিয়ার কারাগারে রয়েছেন যাদের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয়েছে।