বিজনেস ডেস্ক | নয়া দিল্লি ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অটোমোবাইল বাজারে প্রবেশের পথ সহজ করতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। দীর্ঘ আলোচনার পর ভারত সরকার ইইউ থেকে আমদানি করা গাড়ির ওপর বিদ্যমান সর্বোচ্চ ১১০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে প্রাথমিকভাবে ৪০ শতাংশে নামিয়ে আনতে সম্মত হয়েছে। মঙ্গলবার এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’ বা এফটিএ (FTA) ঘোষণা আসতে পারে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
শুল্ক হ্রাসের প্রধান দিকগুলো:
-
তাত্ক্ষণিক ছাড়: ১৫ হাজার ইউরোর বেশি মূল্যের ইইউ-নির্মিত নির্দিষ্ট সংখ্যক গাড়ির ওপর শুল্ক তাৎক্ষণিকভাবে কমানো হবে।
-
দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য: আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই শুল্ক ধাপে ধাপে কমিয়ে মাত্র ১০ শতাংশে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
-
প্রাথমিক কোটা: বছরে প্রায় ২ লাখ অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিনচালিত (Internal Combustion Engine) গাড়ি এই বিশেষ শুল্ক ছাড়ের আওতায় আসবে।
কেন একে ‘মাদার অব অল ডিলস’ বলা হচ্ছে?
বিশ্লেষকরা এই চুক্তিকে ভারতের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সন্ধি হিসেবে দেখছেন। এর প্রধান কারণগুলো হলো: ১. ইউরোপীয় আধিপত্যের সুযোগ: বর্তমানে ভারতের ৪৪ লাখ ইউনিটের গাড়ির বাজারে ইউরোপীয় নির্মাতাদের অংশীদারত্ব মাত্র ৪ শতাংশ। শুল্ক কমলে ভক্সভাগেন, মার্সিডিজ-বেঞ্জ, বিএমডব্লিউ এবং রেনোর মতো ব্র্যান্ডগুলো বাজারে শক্তিশালী অবস্থান পাবে। ২. বস্ত্র ও গয়না খাতের রক্ষা কবচ: যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক উচ্চ শুল্ক নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতের বস্ত্র ও গয়না রপ্তানিকারকরা ইউরোপীয় বাজারে নতুন করে সুবিধা পাবে। ৩. ইলন মাস্কের দীর্ঘদিনের দাবি: উচ্চ আমদানিকৃত শুল্ক নিয়ে টেসলা প্রধান ইলন মাস্ক ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক নির্মাতারা দীর্ঘকাল ধরে যে সমালোচনা করে আসছিলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তার একটি সমাধান মিলল।
বৈদ্যুতিক গাড়িতে এখনই ছাড় নয়
দেশীয় কোম্পানি টাটা মোটরস এবং মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রার বিনিয়োগ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ক্ষেত্রে এখনই শুল্ক কমানো হচ্ছে না। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, প্রাথমিক ৫ বছর ইভিগুলো এই সুবিধার বাইরে থাকবে, এরপর সমহারে শুল্ক কমানো শুরু হবে।
২০৩০-এর লক্ষ্যমাত্রা
বর্তমানে ভারতের বার্ষিক গাড়ির বাজার ৪৪ লাখ ইউনিটের হলেও ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৬০ লাখ বা ৬ মিলিয়নে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ক্রমবর্ধমান বাজার ধরতেই ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো এখন নতুন বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভক্সভাগেন তাদের স্কোডা ব্র্যান্ডের মাধ্যমে এবং রেনো নতুন কৌশলে ভারতে ফেরার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ: কাল মঙ্গলবার চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর ভারতের অটোমোবাইল এবং টেক্সটাইল খাতের শেয়ার বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।