নিজস্ব প্রতিবেদক, মানিকগঞ্জ শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
মানিকগঞ্জে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালক রফিক মিয়াকে (২৭) গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তাঁর তিন বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যার পর দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলে দেওয়া হলেও ঘটনার তিন দিন পার হয়ে গেলেও এখনো কাটা মাথাটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
আজ শনিবার দুপুরে পিবিআই মানিকগঞ্জ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ঘিওর উপজেলার রাথুরা গ্রামের মো. রিপন মিয়া (৩০), মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পাছবারইল গ্রামের আরমান হোসেন (২০) ও সজিব হোসেন (২৫)। তাঁরা সবাই নিহতের বন্ধু ও পরিচিত ছিলেন।
যেভাবে সংঘটিত হয় হত্যাকাণ্ড
পিবিআই জানায়, ঘাতক রিপন মিয়া পেশায় একজন নির্মাণশ্রমিক এবং রফিকের বন্ধু। রফিককে হত্যা করে তাঁর ইজিবাইকটি বিক্রির পরিকল্পনা করেন রিপন। গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় গাঁজা খাওয়ার কথা বলে রফিককে ইজিবাইকসহ পাছবারইল এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে আরমান হাতুড়ি দিয়ে রফিকের মাথায় আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর আরমান ও সজিব রফিকের হাত-পা চেপে ধরেন এবং রিপন দা দিয়ে গলা কেটে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। পরে প্রমাণ লোপাটের জন্য মাথা ও দেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। দেহটি ভেসে উঠলে পরে তা নদীর তীরে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
নিখোঁজ ও লাশ উদ্ধার
গত মঙ্গলবার সকাল থেকে নিখোঁজ ছিলেন ঘিওর উপজেলার রাথুরা গ্রামের রফিক মিয়া। পরদিন বুধবার দুপুরে পাছবারইল গ্রামের এক ব্যক্তি কালীগঙ্গা নদীর তীরে মাটির নিচে একটি পা দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ সেখান থেকে রফিকের মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার করে এবং স্বজনরা তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করেন।
তদন্ত ও গ্রেপ্তার
পিবিআই প্রযুক্তির সহায়তায় গত বৃহস্পতিবার ধামরাইয়ের কালামপুর থেকে মূল পরিকল্পনাকারী রিপনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যে আরমান ও সজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের তথ্যের ভিত্তিতে কালামপুরের একটি গ্যারেজ থেকে ছিনতাইকৃত ইজিবাইকটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য
মানিকগঞ্জ পিবিআই-এর পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী বলেন:
“নিহত যুবকের মাথা উদ্ধারে ডুবুরি দল দিয়ে নদীতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। গ্রেপ্তার আসামিরা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। মাথা উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”