নিজস্ব প্রতিবেদক | মানিকগঞ্জ ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া দুই আনসার সদস্য আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে মানিকগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাঁদের হাজির করা হলে বিচারক সজীব চৌধুরীর কাছে তাঁরা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযুক্তদের পরিচয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা
ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া দুই আনসার সদস্য হলেন কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার আবু সাঈদ (২৫) এবং টাঙ্গাইলের ভূয়াপুর উপজেলার শাহাদাত হোসেন (২৯)। তাঁরা ওই হাসপাতালে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী অভিযুক্ত দুজনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। মানিকগঞ্জ জেলা কমান্ড্যান্ট মো. কামরুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
যেভাবে ঘটে এই নৃশংস ঘটনা
গত রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ থেকে স্বামীর সঙ্গে ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে নানার বাড়ি যাচ্ছিলেন ওই গৃহবধূ। রাত ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাঁদের ভ্যানের চার্জ শেষ হয়ে গেলে তাঁরা নিরাপত্তার জন্য সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে একটি গাছের নিচে আশ্রয় নেন।
পুলিশ জানায়, এ সময় দায়িত্বরত দুই আনসার সদস্য শাহাদাত ও আবু সাঈদ তাঁদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচতলায় নিয়ে যান। সেখানে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে গৃহবধূকে দ্বিতীয় তলায় নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন তাঁরা। পরে হাসপাতালে থাকা রোগীর স্বজনদের সহায়তায় ওই দুই আনসার সদস্যকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর মা বাদী হয়ে সোমবার রাতে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেছেন। মানিকগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক মিনহাজ উদ্দিন জানান, আসামিরা অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ভুক্তভোগী গৃহবধূকেও জবানবন্দির জন্য আদালতে পাঠানো হবে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, গতকাল সোমবার ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম জানান, আসামিরা সরাসরি স্বীকারোক্তি দিলেও এর পেছনে আরও কোনো ঘটনা বা অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।