ইসলামিক ডেস্ক | ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সৃষ্টিজগতের অগণিত মাখলুকাতের মধ্যে মহান আল্লাহ তাআলা মানুষকে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ বা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে ঘোষণা করেছেন। কিন্তু এই শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ড কী? কেবল বাহ্যিক গঠন নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গূঢ় রহস্য রয়েছে? পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের প্রধান পাঁচটি কারণ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. আল্লাহর কুদরতি হাতে সৃষ্টি
মহাবিশ্বের অন্য সব সৃষ্টি আল্লাহর ‘কুন’ (হও) শব্দের আদেশে সম্পন্ন হলেও, মানবজাতির আদি পিতা হজরত আদম (আ.)-কে আল্লাহ নিজ কুদরতি হাতে সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, “হে ইবলিস, যাকে আমার নিজ হাতে সৃষ্টি করেছি, তাকে সিজদা করতে তোকে কিসে বাধা দিল?” (সুরা সোদ: ৭৫)। নিজ হাতে সৃষ্টির এই অনন্য সম্মান কেবল মানুষের জন্যই বরাদ্দ।
২. সুন্দরতম অবয়ব ও ভারসাম্যপূর্ণ গঠন
মানুষের শারীরিক গঠন অন্য সব প্রাণীর চেয়ে আলাদা এবং ভারসাম্যপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেন, “অবশ্যই আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতম অবয়বে।” (সুরা তিন: ৪)। মানুষের সোজা হয়ে দাঁড়ানো, প্রখর দৃষ্টিশক্তি এবং বাকশক্তির এই শৈল্পিক বিন্যাস আল্লাহর প্রজ্ঞা ও গুণেরই প্রতিফলন।
৩. বিবেক ও শুদ্ধ জ্ঞানের সমন্বয়
বিবেক ও জ্ঞান—এই দুটি গুণই মানুষকে অন্য সব সৃষ্টি থেকে পৃথক করেছে।
-
মস্তিষ্ক ও মেধা: তথ্য ধারণ ও বিশ্লেষণের ক্ষমতা মানুষের মস্তিষ্কের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
-
বোধশক্তি বা কলব: মানুষের বিবেক ও উপলব্ধি অন্তরের সাথে সম্পর্কিত। কোরআনের ভাষায়, যাদের অন্তর থাকা সত্ত্বেও সত্য উপলব্ধি করে না, তারা পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট। (সুরা আরাফ: ১৭৯)।
৪. পৃথিবীর প্রতিনিধি বা ‘খলিফা’
আল্লাহ তাআলা মানুষকে পৃথিবীতে তাঁর ‘খলিফা’ বা প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করেছেন। তিনি বলেন, “তিনিই সেই সত্তা, যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীর সবকিছু সৃষ্টি করেছেন।” (সুরা বাকারা: ২৯)। মহাবিশ্বের সব উপাদানকে মানুষের সেবায় নিয়োজিত করা হয়েছে, যেন মানুষ দায়িত্বশীলতার সাথে পৃথিবীর শৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারে।
৫. আল্লাহর ইবাদত ও বিধানের অনুসরণ
মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব কেবল আকৃতিতে নয়, বরং তার আমল ও আনুগত্যে। আল্লাহর দেওয়া জীবনবিধান অর্থাৎ আল-কোরআনের পূর্ণ অনুসরণের মধ্যেই প্রকৃত সফলতা নিহিত। মানুষ যখন বিবেক ও ইমানের সমন্বয় ঘটিয়ে স্রষ্টার ইবাদতে মশগুল হয়, তখনই সে ফেরেশতাদের চেয়েও উচ্চ মর্যাদা লাভ করে।
উপসংহার
মানুষ যখন তার দায়িত্ববোধ, জ্ঞান এবং স্রষ্টার প্রতি আনুগত্য হারিয়ে ফেলে, তখনই সে পশুর স্তরে নেমে যায়। তাই ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ হিসেবে মর্যাদা বজায় রাখতে হলে আমাদের বিবেক ও ধর্মীয় বিধানের সঠিক চর্চা প্রয়োজন। মানুষের প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব মূলত তার মানবতা ও ইমানি গুণাবলির মাঝেই নিহিত।