
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন
ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্প নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকির মুখেও পিছু হটছে না ভারত। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে এই প্রকল্প থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ তাদের হাতে নেই। বর্তমানে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। এছাড়া মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের দেওয়া শর্তসাপেক্ষ নিষেধাজ্ঞার ছাড়ের মেয়াদ আগামী ২৬ এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় চাবাহার প্রকল্পের ৩৭০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ও ১০ বছরের চুক্তি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, এই ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে তারা মার্কিন পক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
নয়াদিল্লির কৌশলগত পরিকল্পনায় চাবাহার বন্দরটি তিনটি প্রধান কারণে ‘লাইফলাইন’ হিসেবে বিবেচিত:
পাকিস্তানকে এড়ানো: আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে পাকিস্তানের স্থলপথ ব্যবহারের জটিলতা এড়াতে চাবাহারই ভারতের একমাত্র বিকল্প।
পরিবহন সময় সাশ্রয়: আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডরের (INSTC) মাধ্যমে সেন্ট পিটার্সবার্গের সঙ্গে যুক্ত হবে ভারত। এতে সুয়েজ খালের তুলনায় পণ্য পরিবহনে অন্তত ১৫ দিন সময় কম লাগবে।
কৌশলগত অবস্থান: গুজরাটের কান্ডলা বন্দর থেকে মাত্র ৫৫০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত এই বন্দরটি হরমুজ প্রণালির বাইরে, যা যেকোনো আঞ্চলিক সংঘাতের সময় নিরাপদ বিকল্প।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ভারত সরকার একটি ‘স্বতন্ত্র সত্তা’ বা পৃথক বিজনেস এনিটি তৈরির কথা ভাবছে। এতে ভারত সরকার সরাসরি সম্পৃক্ত না থেকেও উন্নয়নকাজ চালিয়ে যেতে পারবে। গত বছর ভারত ও ইরানের মধ্যে ১.৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়েছে, যার ওপর ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শুল্কের প্রভাব খুব একটা বেশি হবে না বলেই মনে করছে ভারতীয় সূত্রগুলো।
নয়াদিল্লি এখন ওয়াশিংটনকে এটি বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, চাবাহার কেবল ভারতের বাণিজ্যিক স্বার্থ নয়, বরং আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি। ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে ভারত এই ট্রানজিট রুটটিকে যেকোনো মূল্যে সচল রাখতে চায়।