
ঢাকা প্রতিনিধি | ১৬ মার্চ ২০২৬
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সদ্য সম্পাদিত ‘রিসিপ্রোকাল ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ (ART)-কে ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী ও গোলামীর চুক্তি’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল থেকে এই দাবি জানানো হয়।
সমাবেশ থেকে চুক্তির নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের বিচার এবং বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের অপসারণের দাবিও তোলা হয়।
সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে স্বাক্ষরিত ৩২ পৃষ্ঠার এই চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, চুক্তির খসড়ায় ‘Bangladesh shall’ বাক্যাংশটি ১৫৮ বার ব্যবহৃত হয়েছে, যেখানে ‘United States shall’ ব্যবহৃত হয়েছে মাত্র ৯ বার। এটিই চুক্তির অসামঞ্জস্যতা ও অধীনতার বড় প্রমাণ।
বক্তারা চুক্তির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আশঙ্কা প্রকাশ করেন:
রাজস্ব ক্ষতি: সিপিডি-এর হিসাব অনুযায়ী, এই চুক্তির কারণে বাংলাদেশ বার্ষিক ১,৩২৭ কোটি টাকার আমদানি-শুল্ক রাজস্ব হারাবে।
পণ্যের দাম বৃদ্ধি: আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে বেশি মূল্যে মার্কিন পণ্য (গম, তুলা, এলএনজি, প্রতিরক্ষা সামগ্রী) কিনতে বাংলাদেশকে বাধ্য করা হবে।
সার্বভৌমত্ব বিসর্জন: চুক্তির ৪.১ ও ৪.৩(৪) ধারা অনুযায়ী, আমেরিকা চীন বা রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনো নিষেধাজ্ঞা দিলে বাংলাদেশকেও তা মানতে হবে। এছাড়া ডিজিটাল বাণিজ্য ও অন্যান্য মুক্তবাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।
নির্বাচনের মাত্র ৬০ ঘণ্টা আগে উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির কঠোর সমালোচনা করেন নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার কোটি টাকা) এই চুক্তির দায়ভার ১০ থেকে ২০ বছর ধরে জনগণকে বহন করতে হবে। অথচ বিশেষজ্ঞ তথ্যানুযায়ী, প্রথম বিমান আসতেই ২০৩১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
বক্তারা উল্লেখ করেন, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (IEEPA)’-এর আওতাধীন শুল্ক আরোপকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। এই রায়ের পর মালয়েশিয়াসহ অনেক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে করা অনুরূপ চুক্তি অকার্যকর ঘোষণা করেছে।
এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ কেন চুক্তিতে অটল রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নেতৃবৃন্দ বলেন, “মালয়েশিয়া পারলে বাংলাদেশ কেন পারবে না? বিএনপি সরকারকে অবিলম্বে এই চুক্তির বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।”
সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যতক্ষণ না এই ‘দাসত্বমূলক’ চুক্তি বাতিল করা হচ্ছে, ততক্ষণ তারা রাজপথে কঠোর আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।