১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মাসদার হোসেনের বিরুদ্ধে কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ: মুখ খুললেন আইনমন্ত্রী

admin
প্রকাশিত ১২ এপ্রিল, রবিবার, ২০২৬ ১৯:০৫:৪৭
মাসদার হোসেনের বিরুদ্ধে কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ: মুখ খুললেন আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১২ এপ্রিল, ২০২৬

বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ আন্দোলনের ঐতিহাসিক চরিত্র, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাসদার হোসেনের বিরুদ্ধে মক্কেলের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়েও মামলা পরিচালনা না করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ১ কোটি ২০ লাখ টাকা নেওয়ার পরও কাজ না করায় ভুক্তভোগী কোম্পানিকে উল্টো ৪২ লাখ টাকার বেশি জরিমানা গুনতে হয়েছে বলে জানা গেছে।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্য

আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তিনি সংবাদপত্রের মাধ্যমে জেনেছেন। মন্ত্রী জানান:

  • জনৈক মক্কেল সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন যে, চেকের মাধ্যমে তাঁর কাছ থেকে বিশাল অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়েছে।

  • আইন মন্ত্রণালয়ের এখানে সরাসরি কোনো করণীয় নেই। বিষয়টি বার কাউন্সিলে গেলে তারা আইনজীবীর সনদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

  • তবে এতে মানি লন্ডারিং, দুর্নীতি বা আয়কর সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের বিষয় থাকতে পারে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখবে।

অভিযোগের নেপথ্যে যা আছে

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১ ডিসেম্বর ‘নূর প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’-এর লিগ্যাল অ্যান্ড অ্যাডমিন অফিসার জামাল হোসাইন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের কাছে এই লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের মূল পয়েন্টগুলো হলো:

  1. চুক্তি ও অর্থ প্রদান: কর সংক্রান্ত মামলা শূন্য করে নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়ে মাসদার হোসেন ১ কোটি ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। মৌখিক চুক্তিতে চেকের মাধ্যমে তাঁকে ১ কোটি টাকা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ভ্যাট আপিলের জন্য আরও ২০ লাখ টাকা প্রদান করা হয়।

  2. দায়িত্বে অবহেলা: অভিযোগকারী জানান, টাকা নেওয়ার পর মাসদার হোসেন মামলাটির কোনো তদারকি করেননি এবং কোম্পানিকে কোনো আপডেট দেননি।

  3. আর্থিক ক্ষতি: পরে অন্য আইনজীবীর মাধ্যমে জানা যায়, গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর মামলাটিতে কোম্পানিকে ৪২ লাখ ৯ হাজার ২৭৩ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানটি এখন তাদের প্রদানকৃত অর্থ ক্ষতিপূরণসহ ফেরত পেতে আইনি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

কে এই মাসদার হোসেন?

ব্যারিস্টার মাসদার হোসেন বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম। ১৯৯৪ সালে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার দাবিতে তাঁর দায়ের করা রিটটি ‘মাসদার হোসেন মামলা’ নামে পরিচিত। তাঁর এই আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষিতেই ১৯৯৯ সালে আপিল বিভাগ ঐতিহাসিক রায় দেয় এবং ২০০৭ সালে বিচার বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে পৃথক হয়। এমন একজন ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে আইনি অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।