ভোলা (চরফ্যাশন), [তারিখ]:
মাস্টার্স ডিগ্রির সনদ জাল প্রমাণিত হওয়ায় ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা কলেজের অ্যাডহক কমিটির সভাপতির পদ হারালেন মো. সিরাজুল ইসলাম সবুজ খাঁন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর সভাপতির দায়িত্ব বাতিল করে নতুন সভাপতি মনোনয়নের নির্দেশ দিয়েছে।
মো. সিরাজুল ইসলাম সবুজ খাঁন দক্ষিণ আইচা থানাধীন চরমানিকা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মো. আলী মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২০ এপ্রিল ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে প্রাপ্ত মাস্টার্স ডিগ্রির সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে তিনি দক্ষিণ আইচা কলেজের অ্যাডহক কমিটির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে গত ১ নভেম্বর এক ব্যক্তির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ সনদ যাচাই কার্যক্রম শুরু করে।
যাচাই শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. এ কে এম শামসুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দাখিল করা সনদে কোনো ক্রমিক নম্বর নেই, কোর্স কোডে অসংগতি রয়েছে এবং স্বাক্ষর ও তারিখেও গরমিল পাওয়া গেছে। এসব কারণে সংশ্লিষ্ট মাস্টার্স সনদকে জাল হিসেবে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
এ বিষয়টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরে এলে গতকাল বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে কলেজ পরিদর্শক মো. আব্দুল হাই সিদ্দিক সরকার স্বাক্ষরিত এক লিখিত নির্দেশনায় দক্ষিণ আইচা কলেজের অধ্যক্ষকে অবহিত করা হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, মো. সিরাজুল ইসলাম সবুজ খাঁনের মাস্টার্স সনদ জাল প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর অ্যাডহক কমিটির সভাপতির দায়িত্ব আর বৈধ নয়।
একই সঙ্গে শূন্য ঘোষিত ওই পদে অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য মাস্টার্স ডিগ্রিধারী যোগ্য তিনজন প্রার্থীর নাম তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই আদেশ প্রকাশের পর কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
দক্ষিণ আইচা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতির চিঠি ই-মেইলে পাওয়ার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত হয়েছেন। তিনি বলেন, কলেজের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজুল ইসলাম সবুজ খাঁন বলেন, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমন একটি সিদ্ধান্তের কথা শুনেছি। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি হাতে পাইনি। আমি এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করব এবং প্রয়োজনে আইনি লড়াই করব।” তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েই তাঁকে এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সবুজ খাঁন নিজেকে থানা বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচয় দিলেও দলের কোনো সাংগঠনিক পদে তাঁর সম্পৃক্ততা নেই বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।