
মিতালী-১১১: উদ্ধার ছুরি ঘিরে নতুন প্রশ্ন, তদন্তে উঠছে একাধিক অসঙ্গতি
নিজস্ব প্রতিনিধি :: মিশন মিতালী-১১১-এর ট্রিপল হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ যে ছুরিটি উদ্ধার করেছে, সেটিকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে উদ্ধার হওয়া ছুরিটির অবস্থা ও দৃশ্যমান কিছু বিষয় নিয়ে তদন্তের স্বচ্ছতা এবং আলামতটির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশের দাবি, এই ছুরি দিয়েই তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু ছুরিটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, এতে ঝংধরা অবস্থার চিহ্ন রয়েছে এবং হাতলে দৃশ্যমান রক্তের দাগ নেই।
এখানেই উঠছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—যদি একই ছুরি দিয়ে তিনজনকে জবাই করা হয়ে থাকে, তাহলে ছুরিটির হাতলে বা অন্য অংশে দৃশ্যমান রক্তের কোনো চিহ্ন নেই কেন?
ঘটনাস্থলের লাশগুলোর ছবি দেখলে তিনজনকেই জবাই করার মতো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। সাধারণত গলার বড় রক্তনালি কেটে গেলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ার কথা। তাহলে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে দাবি করা ছুরিটি উদ্ধার করার পরও সেটিতে রক্তের দৃশ্যমান চিহ্ন না থাকার বিষয়টি কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে—এ প্রশ্নের উত্তর তদন্তকারীদের কাছ থেকেই আসা প্রয়োজন।
অবশ্য শুধু চোখে দেখা অবস্থার ওপর ভিত্তি করে কোনো আলামতকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা সম্পৃক্ত নয় বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। ছুরিটির ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ছুরিতে রক্ত, টিস্যু, ডিএনএ বা অন্য কোনো জৈবিক আলামত পাওয়া গেছে কি না—তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
আরেকটি প্রশ্ন হলো, ছুরিটি ঠিক কোথা থেকে, কীভাবে এবং কার উপস্থিতিতে উদ্ধার করা হয়েছে। যদি আগের দিন ওই স্থান তল্লাশি করা হয়ে থাকে, তাহলে পরদিন একই স্থান থেকে হত্যাকাণ্ডের কথিত অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাটিও তদন্তের স্বচ্ছতার স্বার্থে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।
মিতালী-১১১-এর ট্রিপল হত্যাকাণ্ডে তাই এখন শুধু ‘ছুরি উদ্ধার’ নয়—ছুরিটির ফরেনসিক প্রমাণ, উদ্ধারের প্রক্রিয়া এবং লাশের আঘাতের সঙ্গে অস্ত্রটির বৈজ্ঞানিক মিল রয়েছে কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
জনমনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—পুলিশের দাবি করা এই ছুরিই যদি হত্যাকাণ্ডের অস্ত্র হয়, তাহলে সেই দাবির পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ কোথায়?
তদন্তের স্বার্থে এই প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট ও প্রমাণভিত্তিক উত্তর এখন সময়ের দাবি।