
মিতালী-১১১ মিশন: গতকাল তল্লাশি, আজ একই স্থান থেকে ছুরি উদ্ধার—অস্ত্রে নেই দৃশ্যমান রক্তের দাগ!
সিলেটের আলোচিত মিতালী-১১১ ট্রিপল হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন করে রহস্য ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে একটি ছুরি উদ্ধারের ঘটনা।
গতকাল যে স্থানটি পুলিশ তল্লাশি করে দেখেছিল, আজ সেখান থেকেই একটি ছুরি উদ্ধারের দাবি করা হয়েছে। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, উদ্ধারকৃত ছুরিতে প্রাথমিকভাবে কোনো দৃশ্যমান রক্তের দাগ দেখা যায়নি।
এ ঘটনায় তদন্তের আলামত ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গতকাল পুলিশ ওই স্থান তল্লাশি করার পরও যদি সেখানে ছুরিটি থেকে থাকে, তাহলে সেটি তল্লাশির সময় পুলিশের নজরে এলো না কেন? আর আজ কীভাবে একই স্থান থেকে সেটি উদ্ধার হলো—এ প্রশ্নের উত্তর এখন গুরুত্বপূর্ণ।
অভিযোগ রয়েছে, একজন পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে ছুরিটি রেখে পরে সেটি উদ্ধারের ছবি তুলেছেন। বিষয়টি সত্য হলে আলামত সংরক্ষণ ও উদ্ধারের প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হবে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—উদ্ধারকৃত ছুরিটি আদৌ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র কি না। কারণ ছুরিতে দৃশ্যমান রক্তের দাগ না থাকলে শুধু ছবি বা ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারের ভিত্তিতে এটিকে হত্যার অস্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক পরীক্ষা।
ছুরিটিতে মাইক্রোস্কোপিক রক্তের চিহ্ন, ডিএনএ, আঙুলের ছাপ কিংবা অন্য কোনো জৈবিক আলামত রয়েছে কি না, তা পরীক্ষার পরই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।
মিতালী-১১১ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—গতকাল তল্লাশি করা স্থান থেকে আজ ছুরি উদ্ধার হলো কীভাবে? আর উদ্ধারকৃত ছুরিতে দৃশ্যমান রক্তের দাগ না থাকার বিষয়টি তদন্তে কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে?
ঘটনাটির স্বচ্ছ তদন্তের স্বার্থে গতকালের তল্লাশির ভিডিও, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, পুলিশ সদস্যদের বডি-ক্যামেরা বা মোবাইলে ধারণ করা ফুটেজ এবং আজকের ছুরি উদ্ধারের পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।