৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

মিনিয়াপলিসে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ২ বছরের শিশুসহ বাবাকে আটক: আইসিই-র বিরুদ্ধে নৃশংসতার অভিযোগ

admin
প্রকাশিত ২৪ জানুয়ারি, শনিবার, ২০২৬ ২১:০৫:৪৮
মিনিয়াপলিসে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ২ বছরের শিশুসহ বাবাকে আটক: আইসিই-র বিরুদ্ধে নৃশংসতার অভিযোগ

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক, মিনিয়াপলিস | তারিখ: [আজকের তারিখ]

Manual5 Ad Code

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপলিসে ফেডারেল ইমিগ্রেশন (আইসিই) এজেন্টদের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে দুই বছরের এক শিশুকন্যাকে তার বাবার সাথে আটকের পর অন্য রাজ্যে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। অত্যন্ত নাটকীয় ও উত্তেজনাকর এই ঘটনার পর ব্যাপক আইনি লড়াই শেষে শিশুটি তার মায়ের কাছে ফিরলেও, বাবা এখনো আটক রয়েছেন।

Manual5 Ad Code

ঘটনার সূত্রপাত

গত বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে এলভিস জোয়েল টিই তাঁর দুই বছরের মেয়েকে নিয়ে দোকান থেকে ফেরার পথে আইসিই সদস্যদের বাধার মুখে পড়েন। পরিবারের আইনজীবীদের অভিযোগ, কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই এজেন্টরা এলভিসের গাড়ির কাচ ভেঙে তাঁকে ও তাঁর শিশুসন্তানকে আটক করে। এ সময় শিশুটির মা কাছেই দাঁড়িয়ে থাকলেও এজেন্টরা শিশুটিকে তাঁর মায়ের কাছে দিতে বাধা দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপস্থিত জনতার ওপর রাসায়নিক গ্যাস ও ‘ফ্ল্যাশ-ব্যাং’ ব্যবহারেরও অভিযোগ উঠেছে।

আদালতের নির্দেশ ও সরকারি অবজ্ঞা

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর আইনজীবীরা জরুরি ভিত্তিতে আদালতের দ্বারস্থ হন। রাত ৮টা ১০ মিনিটে একজন ফেডারেল বিচারক নির্দেশ দেন যে, বাবা ও মেয়েকে মিনেসোটার বাইরে পাঠানো যাবে না। বিচারক স্পষ্ট উল্লেখ করেন, “বলাই বাহুল্য, এই শিশুর কোনো অপরাধের ইতিহাস নেই।” তিনি রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে শিশুকে ছেড়ে দেওয়ার আদেশ দেন।

Manual3 Ad Code

তবে আদালতের সেই আদেশ উপেক্ষা করে রাত সাড়ে ৮টার দিকেই সরকারি কর্মকর্তারা বাবা ও মেয়েকে উড়োজাহাজে করে টেক্সাসের একটি আটককেন্দ্রে পাঠিয়ে দেন।

কর্তৃপক্ষের দাবি বনাম আইনজীবীদের বক্তব্য

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) দাবি করেছে, এলভিস জোয়েল বেপরোয়া গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং তিনি অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন। সংস্থাটি আরও দাবি করে যে, শিশুটির মা তাকে নিতে অস্বীকার করেছিলেন।

Manual2 Ad Code

তবে আইনজীবী ইরিনা ভায়নারম্যান এই দাবিকে ডাহা মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “আইসিই সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে মা ও সন্তানকে বিচ্ছিন্ন করেছে। তারা লোকজনকে দ্রুত অন্য রাজ্যে সরিয়ে নিচ্ছে যাতে বিচারিক প্রক্রিয়ার নাগালের বাইরে রাখা যায়। এই নৃশংসতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”

বর্তমান পরিস্থিতি

দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েন শেষে শুক্রবার বিকেলে শিশুটিকে মিনেসোটায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং বর্তমানে সে তার মায়ের হেফাজতে রয়েছে। তবে তার বাবা এলভিস জোয়েল এখনো মিনেসোটায় আটক অবস্থায় আছেন। মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনাকে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আইনের শাসনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন।