নিজস্ব প্রতিবেদক | মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে দাফন শেষে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের সাবেক এক ম্যাজিস্ট্রেটসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে জখম করেছে ডাকাত দল। গতকাল মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নয়দুয়ারিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে জাবেদ কাউসারের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।
যেভাবে ঘটল এই নৃশংসতা
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মিরসরাইয়ের মঘাদিয়া ইউনিয়নের কাজিরতালুক গ্রামে এক আত্মীয়ের জানাজা ও দাফন শেষে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে সীতাকুণ্ডের বারআউলিয়ার দিকে ফিরছিলেন পাঁচজন। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সিএমএম কোর্টের সাবেক ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম চৌধুরী।
গাড়িটি নয়দুয়ারিয়া এলাকায় পৌঁছালে মহাসড়কে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ডাকাত দল লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে গাড়িতে আঘাত করে গতিরোধ করে। গাড়ি থামামাত্রই একদল সশস্ত্র ডাকাত ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা যাত্রীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়। লুটপাট শেষে ডাকাতরা গাড়িতে থাকা পাঁচজনকেই এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
হতাহতদের পরিচয়
হামলায় গুরুতর আহত চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন: ১. রেজাউল করিম চৌধুরী (সাবেক ম্যাজিস্ট্রেট) ২. নজরুল করিম ৩. নুরুল করিম ৪. জাবেদ কাউসার (আইসিইউতে চিকিৎসাধীন)
আক্রান্তদের স্বজন মো. আলমগীর বলেন, “আমার চাচির দাফন শেষে ফুফাতো ভাইয়েরা বাড়ি ফিরছিলেন। ডাকাতরা সবকিছু লুট করার পরও তাদের নির্দয়ভাবে কুপিয়েছে। জাবেদ কাউসারের অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন।”
পুলিশের বক্তব্য
মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগীরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন থাকায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহাসড়কের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে এমন ভয়াবহ হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও গাড়ি চালকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।