ক্রীড়া প্রতিবেদক | ঢাকা মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বিতর্কিত রানআউটের রেশ কাটছেই না। মাঠের উত্তাপ গড়িয়েছে সংবাদ সম্মেলন পর্যন্ত। যে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে বল তুলে দিতে চেয়েছিলেন, সেই মিরাজই স্টাম্প ভেঙে আউট করায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানি ব্যাটার সালমান আলী আগা। তাঁর সাফ কথা—আইন মেনেই আউট করা হয়েছে ঠিকই, তবে ক্রিকেটের চেতনার (স্পোর্টসম্যানশিপ) জায়গা থেকে মিরাজ এটি না করলেও পারতেন।
ঠিক কী ভেবেছিলেন সালমান?
বলটি সচল (Live) থাকার পরও কেন ক্রিজের বাইরে পা বাড়িয়েছিলেন, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সালমান। তিনি বলেন:
“বলটি আমার প্যাডে লেগে ব্যাটে এসেছিল। তখন আমার মনে হয়েছিল বলটি ‘ডেড’ হয়ে গেছে এবং এখান থেকে আর আউট হওয়ার সুযোগ নেই। আমি মোটেও রান নেওয়ার চেষ্টা করছিলাম না, বরং সৌজন্যবশত বলটি মিরাজের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ওর ভাবনা ছিল অন্যরকম।”
‘আমি ভিন্ন কিছু করতাম’
রানআউটের পর ক্ষোভে ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে সরঞ্জাম ছুড়ে মেরেছিলেন সালমান। ম্যাচ শেষে শান্ত মেজাজে থাকলেও নিজের অবস্থানে অনড় এই ব্যাটার। মিরাজের জায়গায় তিনি নিজে থাকলে কী করতেন—এমন প্রশ্নে সালমান বলেন:
“আমি সব সময় আইন অনুসরণ করতে চাই, তবে আইনের চেয়েও বড় হলো স্পোর্টসম্যান স্পিরিট। যা-ই ঘটুক না কেন, খেলার মাঠে এই চেতনা থাকা জরুরি। মিরাজ যদি মনে করে ও ঠিক করেছে, তবে সেটা ওর দৃষ্টিভঙ্গি। কিন্তু আমাকে জিজ্ঞেস করলে আমি বলব—আমি অবশ্যই ভিন্ন কিছু করতাম এবং স্পোর্টসম্যান স্পিরিটকেই বেছে নিতাম।”
মুহূর্তের উত্তেজনা না কি পরিকল্পনা?
পুরো বিষয়টিকে ‘হিট অব দ্য মোমেন্ট’ বা মুহূর্তের উত্তেজনা হিসেবে দেখছেন সালমান। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন আউট নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। পাকিস্তানের এই ব্যাটার মনে করিয়ে দেন যে, মাঠের ঘটনায় তিনি অবাক হলেও দিনশেষে এটি ক্রিকেটের আইনের মধ্যেই পড়ে। যদিও সৌজন্যতা দেখাতে গিয়ে উইকেট হারানোটা তাঁর কাছে বড় শিক্ষা হয়ে থাকবে।
উল্লেখ্য, এই বিতর্কিত আউটের ম্যাচে পাকিস্তান ১২৮ রানের বিশাল জয় পেলেও সিরিজ এখন ১-১ সমতায়। আগামীকাল ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে নামবে দুদল।